প্রায় দুই দশক পর পীর-আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট বিভাগের কয়েকটি জেলায় সফরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী তিনি সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
এরই অংশ হিসেবে আগামী ২২ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিশাল জনসভা। ওই মাঠের পাশেই ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন—যা এই জনসভাকে দিয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহিম রিপন জানান, প্রথমে কুলাউড়া নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং পরে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ নির্ধারিত হলেও শেষ পর্যন্ত শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠকে চূড়ান্ত ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে—এমন প্রত্যাশায় ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, প্যান্ডেল, মাইক, স্বেচ্ছাসেবক দল, যানবাহন পার্কিংসহ সার্বিক প্রস্তুতি তদারকিতে জেলা নেতৃবৃন্দ একাধিকবার মাঠ পরিদর্শন করেছেন।
সিলেট বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় জনসভা হিসেবে মৌলভীবাজারকে মনোনীত করায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জেলা নেতারা। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর দলের প্রধানের উপস্থিতিতে বড় জনসভা হওয়ায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেন, “হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সব সময় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের আগমন আমাদের জন্য বড় সুযোগ।” তিনি আরও জানান, সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠ, মৌলভীবাজারের আইনপুর মাঠ এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে তিনটি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২২ জানুয়ারি সকালে তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছাবেন। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন। সকাল ১১টায় সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর সড়কপথে মৌলভীবাজারে এসে দ্বিতীয় জনসভায় যোগ দেবেন। এই জনসভায় মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তিনি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আরেকটি জনসভায় অংশ নেবেন।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জুড়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তার কাছে জেলার দীর্ঘদিনের দাবিগুলো তুলে ধরতে আগ্রহী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মৌলভীবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপন, সদর জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিতকরণ, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুকরণ, ঢাকা–শ্রীমঙ্গল রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু।
মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আজও মানুষের স্মৃতিতে জাগরুক। জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে তার নেতৃত্ব, ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিলেট রেলস্টেশনে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ গ্রহণ—এসব কারণেই জিয়া পরিবারকে ঘিরে মৌলভীবাজারবাসীর আবেগ ও ভালোবাসা আজও অটুট। দীর্ঘ বিরতির পর তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, প্রত্যাশা ও উৎসাহ বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :