দীর্ঘদিন লোকসান ও কার্যক্রম স্থবির থাকার পর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (পিআইসিটি)। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে টার্মিনালটি।
শনিবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে অবস্থিত পানগাঁও টার্মিনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টার্মিনালের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নৌপথে কন্টেইনার পরিবহন বহুগুণ বাড়বে। এতে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং দেশের মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে দক্ষ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কার্যকর ও লাভজনক করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। পানগাঁও টার্মিনাল সেই লক্ষ্যের বাস্তব উদাহরণ হতে যাচ্ছে।”
নৌপরিবহন উপদেষ্টা এ সময় দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ও কন্টেইনার টার্মিনাল উন্নয়নে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. মনিরুজ্জামান, মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. টি. এম. আনিসুল মিল্লাতসহ নৌপরিবহন খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে নৌপথে সরাসরি কন্টেইনার পরিবহন বাড়লে লজিস্টিকস ব্যয় কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালটি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রত্যাশিত কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে লোকসানের মুখে পড়ে। এ অবস্থায় সরকার টার্মিনালটির কার্যক্রম টেকসই ও লাভজনক করতে দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত ২২ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে টার্মিনালটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণের দায়িত্ব পায় মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস গ্রুপ মেডলগের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু এবং দক্ষ জনবল ব্যবহারের মাধ্যমে পানগাঁও টার্মিনালকে একটি কার্যকর অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :