নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা, বাড়তি নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আবু হুমাইর , টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়ছে। সীমান্তবর্তী এই আসনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার মোট ১১৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন। নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ইস্যুও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

উখিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি;

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার–৪ আসনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে উখিয়া উপজেলায়। এখানে মোট ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে টেকনাফ উপজেলায় ৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২৭টি। দুই উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন। প্রতি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।

তিনি বলেন, "আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন থাকবে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে নৌবাহিনী অবস্থান করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।"

বিএনপি–জামায়াতের মধ্যেই মূল লড়াই;

এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা নুরুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে সাইফুদ্দিন খালেদ প্রার্থী হয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা গেছে, ভোটের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।

আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটারদের নিয়ে গুঞ্জন;

উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ঘরানার অনেক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। আবার কিছু স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে অবস্থান না নিলেও ভোটের সমীকরণে নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় 'গোপন সমঝোতা'র গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

প্রার্থীদের আশাবাদ;

বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, "এই আসন বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ধানের শীষে ভোট দেবে।"

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, "মানুষ পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়।"

Advertisement

Link copied!