ঈশ্বরগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বহিষ্কার

উবায়দুল্লাহ রুমি , নিজস্ব সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানাকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ-৮ ঈশ্বরগঞ্জ আসনের নব-নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য  ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সাংগঠনিক নীতিমালা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখা বর্তমান নেতৃত্বের অন্যতম অঙ্গীকার। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে বা অনৈতিক কাজে জড়িত হলে দল তার দায় নেবে না। এমন বার্তাও পোস্টে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এদিকে, ঘোষণাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্যে সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা মনে করেন, সংগঠনকে সুসংগঠিত ও কলঙ্কমুক্ত রাখতে এমন কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।

তবে বহিষ্কৃত নেতা মাসুদ রানার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে কমেন্টকারীরা লিখেছেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাই সংগঠনকে সুসংগঠিত ও কলঙ্কমুক্ত রাখতে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তারা আহ্বায়কের এই পদক্ষেপকে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

অন্যায় অপরাধের সঙ্গে আপস নয় উল্লেখ করে আরেকটি মন্তব্যে লিখা হয়েছে, দলের পরিচয়ে কেউ সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে।

Link copied!