ফুলবাড়িয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আটটি করাতকল সিলগালা হলেও বহুল অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা একটি করাতকল রহস্যজনকভাবে রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কালাদহ ও আছিম বাজার এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তাকী তাজওয়ারের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ কার্যক্রমের দায়ে ৮টি করাতকল সিলগালা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, যে করাতকলটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, অনিয়ম ও বন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালাদহ মৌজার বি.আর.এস খতিয়ান নং ৪২২, দাগ নং ১১৭০৬–এর মালিক মো. জিন্নাহ করাতকল স্থাপনের আবেদন করেন। উথুরা রেঞ্জের নির্দেশে এনায়েতপুর বিট কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে লাইসেন্সের পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রস্তাবিত স্থানটি মধুপুর গড়ের সরকারি বনাঞ্চল থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে। সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, বনাঞ্চল থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যায় না।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মধুপুর গড় ও আশপাশের এলাকা থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ করে ব্যবসা করে আসছেন। বৈধ করাতকল মালিকরা সহযোগিতা না করায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন করাতকল স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে অনৈতিক প্রতিবেদন দিয়েছেন, যা সরাসরি বনসম্পদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তার অধিক্ষেত্রে নয়, উথুরা রেঞ্জের আওতাধীন। অভিযানের দিন সংশ্লিষ্ট করাতকলটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উথুরা রেঞ্জ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
আপনার মতামত লিখুন :