নরসিংদীতে বাবাকে আটকে কিশোরী অপহরণ ও হত্যা: প্রধান আসামি নূরা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:৩০ এএম

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষাক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে একদল বখাটে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিচার চেয়ে বিচার না পেয়ে বরং উল্টো হুমকির শিকার হয় পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই মামলার ৫ নম্বর আসামি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলার প্রধান আসামি নূরা পলাতক থাকলেও শুক্রবার রাতে তাকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন—এবাদুল্লাহ, হযরত আলী, মো. গাফফার, ইমরান দেওয়ান, ইছহাক ওরফে ইছা, আবু তাহের ও মো. আইয়ুব।

গ্রেপ্তারকৃত আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার রাতেই তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ধর্ষণের বিচার না পেয়ে এবং গ্রাম ছাড়ার চাপে পরিবারটি আতঙ্কিত ছিল। গত বুধবার রাতে নিরাপত্তার কথা ভেবে বাবা তার মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরা ও তার সহযোগীরা বাবাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর পরদিন সকালে সরিষাক্ষেতে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়।

মাধবদী থানার ওসি জানান, প্রধান আসামি নূরাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!