গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো. শামীম আকতারের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার রাখালিয়া চালা এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলামকে তার নিজ দোকান থেকে জোরপূর্বক বের করে আনা হয়। এরপর মৌচাক ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শামীম আকতার তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “রাতে কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ আমাকে দোকান থেকে বের করে মারধর করে। আমি আইনের আশ্রয় নিতে কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন অপেশাদার আচরণে আমি আতঙ্কিত এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো. শামীম আকতার সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “আপনি আসেন, সামনাসামনি বসে কথা বলি।”
বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের হাতে আসেনি। অভিযোগ পেলে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যখন মারধর ও অভিযোগ গ্রহণ না করার মতো গুরুতর তথ্য পাওয়া যায়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে। অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টি সত্য হলে তা আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে মনে করছেন তারা। এলাকাবাসী এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :