জিসিসিতে আকবর ইস্যুতে অস্বস্তি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের গুঞ্জন

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আকবর হোসেনকে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে নগর ভবনে অস্বস্তি ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অবসরোত্তর সময়েও প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি—এমন অভিযোগ তুলেছেন সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ চাকরি জীবনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছিলেন আকবর হোসেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের মতো নানা অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। সে সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বণ্টন, টেন্ডার ফাইল নিয়ন্ত্রণ এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি—যাদের মধ্যে লাদেন মনির ও আশরাফুল ইসলাম রানার নামও আলোচিত—তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখায় কার্যত একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তিনি।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও পিআরএল স্থগিত রেখে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান আকবর হোসেন। তবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সরকারের আমলে দেওয়া বেশ কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। এরপর জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় শওকত হোসেন সরকারকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি গাজীপুরকে 'গ্রিন ও ক্লিন সিটি' হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

তবে সম্প্রতি আবারও প্রধান প্রকৌশলীর পদ ফিরে পেতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ ও তদবির করছেন আকবর হোসেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিসিসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, "অবসরের পরও যদি একই ব্যক্তি আবার দায়িত্ব পান, তাহলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নেতিবাচক বার্তা যাবে। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।"

এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, "এ ধরনের কোনো অফিসিয়াল চিঠি আমি এখনও পাইনি। বিষয়টি আমিও লোকমুখে শুনেছি।"

এদিকে আকবর হোসেনকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আকবর হোসেনের মুঠোফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement

Link copied!