কিশোরগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে মিলছে না প্রয়োজনীয় তেল। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও পরিবহন চালকরা। ঈদের ছুটির পর থেকেই এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ) থেকে সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জ শহরের পাম্পগুলোতেও জ্বালানি তেলের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছুক্ষণ আগেও কয়েকজনকে তেল নিতে দেখেছি, কিন্তু আমরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদের আগে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নিলেও বাস্তবে কেন এই সংকট তৈরি হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মুরাদ অ্যান্ড কোং-এর প্রোপাইটর ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড-এর ডিলার আলমগীর মুরাদ রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পদ্মা অয়েল থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী তা বিতরণ করছি। ১৮ মার্চ আমরা ৪,৫০০ লিটার অকটেন ও ৪,৫০০ লিটার পেট্রোল পেয়েছি। এছাড়া একদিন পরপর প্রায় ৬,০০০ লিটার ডিজেল পাই, যা মূলত গণপরিবহন ও অন্যান্য খাতে বরাদ্দ থাকে।
তিনি আরও জানান, জরুরি প্রয়োজনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বাকিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে পাম্পে তেলের মজুদ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলে ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার, মাইক্রোবাসে ২০–২৫ লিটার, পিকআপে ৭০–৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাসে ২০০–২২০ লিটার পর্যন্ত সরবরাহের নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে, আলমগীর মুরাদ রেজা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় তার পাম্পে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা পূরণ করতেও তিনি জ্বালানির সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :