রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত ২৬ জনের মধ্যে ১৪ জন নারী, ১২ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু (৫ জন ছেলে ও ৩ জন মেয়ে) রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪ জনের মরদেহ শনাক্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো পদ্মায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসের ভেতর থেকে সরাসরি ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট, ১৫ জন ডুবুরি এবং সেনাবাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নিচ্ছেন।
শনাক্তকৃত নিহতদের তালিকা (আংশিক):
১. রেহেনা বেগম (৬১), ২. মর্জিনা খাতুন (৫৬), ৩. রাজীব বিশ্বাস (২৮), ৪. জহুরা অন্তি (২৭), ৫. কাজী সাইফ (৩০), ৬. মর্জিনা আক্তার (৩২), ৭. ইস্রাফিল (৩), ৮. সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ৯. ফাইজ শাহানূর (১১), ১০. তাজবিদ (৭), ১১. আরমান খান (বাসচালক-৩১), ১২. নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), ১৩. লিমা আক্তার (২৬), ১৪. জোস্ন্যা (৩৫), ১৫. মুক্তা খানম (৩৮), ১৬. নাছিমা (৪০), ১৭. আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), ১৮. সোহা আক্তার (১১), ১৯. আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ২০. আরমান (৭ মাস), ২১. আব্দুর রহমান (৬), ২২. সাবিত হাসান (৮), ২৩. আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), ২৪. উজ্জ্বল, ২৫. আশরাফুল ও ২৬. জাহাঙ্গীর।
নিহতদের পরিবারের আর্তনাদে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :