গাজীপুর-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী মেয়র মজিবুর রহমানের পক্ষে বিপুল ভোট প্রদান করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
শনিবার সকালে কালিয়াকৈর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতীয়মান হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালিয়াকৈর উপজেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক সভাপতি বাবু অধ্যাপক চন্দ্র মোহন সরকার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র।
এখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যে গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক নেতা আশীষ বাবু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হারুন অর রশিদ। তাদের সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্তভাবে সম্পন্ন হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির খান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “গণতন্ত্রে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যে সাহসিকতার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করেছে।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপি কাজ করে যাবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার উজ জামান, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি দেওয়ান মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ পারভেজ আহম্মেদ এবং পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইজুদ্দিন আহম্মেদসহ আরও অনেকে।বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তারা দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকবে।
অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তারা ভবিষ্যতেও দেশের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।শেষে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থেকে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সকল সম্প্রদায়ের কল্যাণ কামনা করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :