পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী পূবাইল বাজার পশুর হাটকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। হাটকে ঘীরে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
তাদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে,যাহা মোটেও কাম্য নয়. সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন তারা।
সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ও তদন্ত প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে পূবাইল বাজারের পাশেই নতুন পশুর হাট বসানোর অপচেষ্টা চলছে— এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, ইজারাদার ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূবাইল বাজারের বিপরীত পাশে ছোট কয়ের–বড় কয়ের এলাকায় নতুন পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী বৈধ ইজারাকৃত পশুর হাটের ৩০০ মিটারের মধ্যে ৫৪ বছর পর নতুন কোনো হাট অনুমোদনের সুযোগ নেই। তারপরও একটি মহল প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তদবির চালিয়ে নতুন হাট বৈধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশন প্রশাসন অবৈধ পশুর হাট প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেয়। সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়— পূবাইল বাজারের আশপাশে কোনো নতুন পশুর হাট বসতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশনার পরও রহস্যজনকভাবে নতুন হাটের আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানোর দুরভিসন্ধি চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বাড়িয়া ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা ফারজানা আফরোজের কাছে জানতে চাইলে উনি সাফ বলেন, ছোট কয়েরের পশুর হাট বসানোর বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। পূবাইল বাজার থেকে প্রস্তাবিত নতুন হাটের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার এটা আমি প্রতিবেদন করিনি।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে ওই এলাকা পূবাইল বাজারকেন্দ্রিক একই বাণিজ্যিক জোনের অংশ ও খুব কাছাকাছি ২০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত।
ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা বলছেন, প্রায় ৫৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী পূবাইল বাজার পশুর হাট শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, সরকারের বড় রাজস্ব উৎসও। এর পাশেই আরেকটি হাট বসানো হলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কমে যাবে সরকারি আয় ও সৃষ্টি হতে পারে আইনশৃঙ্খলার অবনতি।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অতীতেও একই ধরনের অপচেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু জনরোষের মুখে তা ব্যর্থ হয়। এবারও একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন হাট বসানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তাদের। যারা আগে পলাতক সরকারের দোসর ছিলেন। এ বিষয়ে জয়দেবপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “তদন্ত করেছি, নিয়ম অনুযায়ী হাট পেলে দেব না কেন?”
অন্যদিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমি কোনো তদবির শুনবো না। নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো নতুন পশুর হাট ইজারা দেওয়া হবে না। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দেখা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :