কারাগার মানেই শুধু শাস্তি আর বন্দিত্বের অন্ধকার নয়,বরং একজন মানুষকে নতুন জীবনে ফিরিয়ে আনার একটি মানবিক ও সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠান। এমন ব্যতিক্রমধর্মী বার্তা দিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার সকালে কারাগার পরিদর্শনে বন্দিদের জীবনমান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক গুরুত্বারোপ করা হয়।
কারাগারে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও গার্ড অব অনার প্রদান করেন কারা কর্মকর্তারা। পরে তিনি কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বন্দিদের আবাসন ব্যবস্থা, রান্নাঘর, চিকিৎসা ইউনিট ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও চাহিদার বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, “কারাগারকে কেবল শাস্তির জায়গা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে একজন মানুষ নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “মানবিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই হওয়া উচিত আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
জেলা প্রশাসক কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের খাদ্য সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে কারাগারের প্রতিকারযোগ্য সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানেরও নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসাঈন এবং কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সহ কারা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বন্দিদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং কারাগারগুলোকে আধুনিক সংশোধনাগারে রূপ দিতে জেলা প্রশাসনের তদারকি ও পরিদর্শন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :