গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ওঝারপাড়া মহরের বাড়ি এলাকায় এক কিশোর অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় সংঘটিত এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ভোরে রাস্তার পাশ থেকে নিহত কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শুভ (১৬) নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কসক কাচারীপাড়া গ্রামের, সোহেল মিয়ার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি আমিরুল ইসলামের পালিত ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে পরিবার নিয়ে গাজীপুর মহানগরের শরিফপুর এলাকার মালেকের বাড়িতে আলম ডাক্তারের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে অল্প বয়সেই অটোরিকশা চালিয়ে সংসারে সহায়তা করতেন শুভ। তার বাবা একজন চালক এবং মা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটের দিকে শুভ মদুলের গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওঝারপাড়া বহরের বাড়ি সড়কের পাশে চায়না ফ্যাক্টরির নিকটে পাকা রাস্তার ওপর তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়।
খবর পেয়ে গাছা থানার এসআই মামুনুর রশিদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়াহিদুজ্জামান, গাছা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আরশাদুর রহমান এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ। এ সময় তারা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
আপনার মতামত লিখুন :