ময়মনসিংহে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান, সপ্তাহেই গ্রেফতার শতাধিক

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

নতুন পুলিশ সুপার কামরুল হাসান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ময়মনসিংহ নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জোরালো সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। তাঁর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম)-এর নেতৃত্বে নগরজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চলছে।

এরই অংশ হিসেবে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলাম ও তাঁর টিম সাদা পোশাকে অভিযানে নেমে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। গতকাল ১,০০০ পিস ইনজেকশনসহ মাদকের একটি বড় চালান জব্দ করে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হলে বিষয়টি নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ নগরীতে প্রায় ৩ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছে। গত এক সপ্তাহে পরিচালিত অভিযানে প্রায় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, “আপনারা সাংবাদিক, কিন্তু আমরা অনেক সময় সত্য কথা বলতে পারি না। বর্তমানে অনেকে সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ করছেন, যাদের অতীত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেউ আগে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, কেউ হকার বা চালক ছিলেন—এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত তাদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা। অনেক সময় দেখা যায়, তারাই পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষ সত্য কথা বলতেও ভয় পায়।

মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইদ্রিস খান বলেন, ময়মনসিংহ নগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এ অভিযান সফলতার দিকে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞ ও পুরাতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে তালিকা প্রণয়ন ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হলে মাদক নির্মূলে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।

নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দুলাল উদ্দিন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তাদের দমনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। ওসি শিবিরুল ইসলাম যোগদানের পর সন্ত্রাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে স্বাগত জানাই। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা যায়। নতুন পুলিশ সুপারের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, “নগরীতে হয় মাদক থাকবে, না হয় আমি থাকব। আমি থাকলে মাদক থাকতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ একটি শিক্ষা নগরী—এখানে কোনোভাবেই মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসানের নির্দেশনায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহ নগরীকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

Link copied!