কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দন ইউনিয়নের মহিনন্দন (উত্তর) গ্রামের হাজি বাড়ি এলাকায় পারিবারিক জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলার জেরে হুমকি ও বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ ঘটনায় প্রবাসী মো. নুরুল আলম সিদ্দিক (মতি মিয়া)-এর বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্ত হিসেবে তার ভাতিজা ফিরুজ মিয়া ও স্থানীয় ইউপি সদস্য খাইরুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নুরুল আলম সিদ্দিক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ফ্রান্সে বসবাস করছেন। দেশে এসে নিজ বাড়িতে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করতে গেলে খাইরুল ও ফিরুজ তাকে বাধা দেন। তারা দাবি করেন, ২ লাখ টাকা না দিলে দেয়াল নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। পরে স্থানীয় শালিশে দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়, তবে তিনি এতে রাজি হননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর থেকেই তাকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার বড় ভাই মোতাহার হোসেন মজলু প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনিও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েছেন। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি নিজ বাড়িতে থাকতে না পেরে কিশোরগঞ্জ শহরে অবস্থান করছেন।
অভিযুক্ত খাইরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কাকা নুরুল আলম সিদ্দিক (মতি মিয়া) আমাকে প্রবাসে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তিনি আমাকে প্রবাসে নেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি। পরে স্থানীয় শালিশে ওই টাকার বিনিময়ে ৩৬ শতাংশ জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও জানান, এ নিয়ে নুরুল আলম সিদ্দিক তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। মঙ্গলবার মামলাটি প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তা না করায় ফিরুজ মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে কাকার ঘরের টিনের বেড়ায় আঘাত করে কিছুটা ভাঙচুর করেন। আমি তখন বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে এসে তাকে শাসন করে ঘরে নিয়ে যাই।
প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম বলেন, মামলা প্রত্যাহার না করায় ক্ষোভ থেকে ফিরুজ মিয়া ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান।
এলাকার সামাজিক ব্যক্তিত্ব সোহারাফ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদে মীমাংসা করা হয়েছিল এবং উভয় পক্ষের জমি পরিমাপ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল মামলা প্রত্যাহার করার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মামলা প্রত্যাহার না করায় নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী বলেন, "এটি পারিবারিক বিরোধ। এর আগেও শালিশের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছিল। তবে মামলা প্রত্যাহার না করায় আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে শালিশের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
আপনার মতামত লিখুন :