গ্রামীণ জনপদের গর্ভবতী মা ও জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চালু করা ‘সেবা বাহন’ এখন অবহেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের আঙিনায়।
"এলজিএসপি-২ প্রকল্প (২০১৬-২০১৭ অর্থ বছর)" এর আওতায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহারের জন্য ‘সেবা বাহন’ নামে পিকআপ ভ্যান সরবরাহ করা হয়। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদেও প্রতিটি প্রায় ১ লাখ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের এসব যানবাহন দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে বর্তমানে এসব সেবা বাহন পরিষদের আঙিনায় পড়ে থেকে প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে গাড়িগুলোর বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। অনেক গাড়ির টায়ার ফেটে গেছে, ইঞ্জিনে জং ধরেছে, এমনকি কিছু গাড়ির ভেতরে গাছপালা জন্মাতে দেখা গেছে। কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এসব যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তহবিল বা চালকের বেতন না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অবহেলা ও অযত্নে সরকারি প্রায় ১০ লাখাধিক টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, “গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ব্যাটারির বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য জানা নেই।”
অন্যদিকে, আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন প্রামাণিক জানান, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গাড়িটি এ অবস্থায় দেখছি। ব্যাটারি সম্ভবত খুলে রাখা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, “ভিজিটে গিয়ে গাড়িগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখেছি। প্রকল্পটি বর্তমানে চলমান না থাকায় সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে এটি যেহেতু সরকারি প্রকল্প, তাই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :