তীব্র গরমে ঈশ্বরদীর ফুটপাতে শরবতের পসরা: স্বস্তির আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

জামিলুর রহমান , ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র ও মাঝারি তাপপ্রবাহ। প্রতিদিন তাপমাত্রার পারদ নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। কাঠফাটা রোদ আর অসহনীয় গরমে জনজীবনে ত্রাহি অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে একটু স্বস্তির খোঁজে ঈশ্বরদীর সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন ফুটপাতের শরবতের দোকানগুলোতে। তবে সাময়িক প্রশান্তি মিললেও এসব পানীয়তে রয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদীর বাস স্টপেজ, রেলগেট, বাজার এলাকা ও বিভিন্ন বিপণিবিতানের সামনে বসছে ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকান। রং-বেরঙের এসব শরবতে লেবু, আখের রস, বেলের শরবত, ইসবগুলের ভুসি, তোকমা, অ্যালোভেরা ও তরমুজের জুস বিক্রি হচ্ছে। প্রতি গ্লাস শরবত ১০ থেকে ২০ টাকায় মিলছে। রিকশাচালক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও পথচারীরাও এসব শরবতের প্রধান ক্রেতা।

রেলগেট এলাকার শরবত বিক্রেতা মো. ফেরজু জানান, গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে তার বিক্রি বহুগুণ বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় রয়েছে ভিন্ন সুর। মশুড়িয়া পাড়া এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা জানলেও তৃষ্ণা মেটাতে নিরুপায় হয়েই এসব পানীয় পান করছেন তিনি।

অন্যদিকে, সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী মো. রনি তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন: "গত সপ্তাহে তৃষ্ণা মেটাতে এক গ্লাস শরবত খেয়ে দুই দিন পেটের যন্ত্রণায় দোকান খুলতে পারিনি। পরে জানতে পারলাম, এসব শরবতে মাছ সংরক্ষণের বরফ এবং কাপড়ের বিষাক্ত রং মেশানো হয়। একটু আরাম খুঁজতে গিয়ে আমরা আসলে শরীরে বিষ নিচ্ছি।"

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. কাবেরী বলেন: "রাস্তার পাশের খোলা শরবত বা পানি কোনোভাবেই পান করা যাবে না। অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব পানীয় থেকে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস (হেপাটাইটিস-এ ও ই), কলেরা ও আমাশার মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া মাছের বরফ ব্যবহারের ফলে হুট করে নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। সুস্থ থাকতে বাড়িতে তৈরি ফলের রস ও নিরাপদ পানি পানের বিকল্প নেই।"

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক রঞ্জন জানান, গত ৩ এপ্রিল ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকছে এবং বাতাস কমে গেলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র এই দাবদাহে ফুটপাতের অস্বাস্থ্যকর পানীয় পরিহার করে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement

Link copied!