ভৈরবে চোর সন্দেহে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ২০, আটক ৭

নিজস্ব সংবাদদাতা , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

জয়নাল আবেদীন রিটন: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চোর সন্দেহে এক যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষকারীরা রাস্তার পাশে থাকা দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশ উভয় পক্ষের ৭ জনকে আটক করেছে।

ঘটনাটি মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পৌর শহরের চণ্ডিবের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোড এলাকার শাহাদাত মেম্বারের বাড়ির যুবকদের সাথে সাত ভাইয়ের বাড়ির যুবকদের মধ্যে ঘটে। এর আগে সোমবার রাত ১১টায় চোর সন্দেহে সাত ভাইয়ের বাড়ির যুবক শারফিনকে মারধরের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ৭ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।

সংঘর্ষে বাবুল মিয়া (৫০), নুর মোহাম্মদ (৪৫), রিফাত (২০), শাহ আলি (৩৫), আইমন (১৬), বাচ্চু মিয়া (৪৫), রাহুল (২২), শারফিন (১৭) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে বাবুল মিয়া ও বাচ্চু মিয়াকে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য আহতরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১১টায় পৌর শহরের চণ্ডিবের এলাকার সাত ভাই বাড়ির শারফিন ও তাঁর বন্ধু শাহাদাত মেম্বারের বাড়িতে গেলে চোর সন্দেহে শারফিনের সাথে মেম্বার বাড়ির যুবকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মারামারি হয়। রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টায় শাহাদাত মেম্বার বাড়ির উদয় নামে এক যুবক সাত ভাই বাড়ির সামনে দিয়ে গেলে তাকে আটক করে মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে বিষয়টি দুই পক্ষ মীমাংসা করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক ফাঁকে মারামারি শুরু হয়। এরপরই উভয় পক্ষ দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় সংঘর্ষে রাস্তার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। টানা ১ ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় উভয়পক্ষের নারী-পুরুষসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।

সাত ভাই বাড়ির আহত বাচ্চু মিয়া বলেন, "আমার ছেলে শারফিন শাহাদাত মেম্বারের বাড়ির উপর দিয়ে যেতে চাইলে রাত ১১টায় আমার ছেলেকে মারধর করে। সকালে এটি হট্টগোল হলে মীমাংসার কথা বলে আমাকেও তাদের বাড়িতে যেতে বলে। আমি শাহাদাত মেম্বারের বাড়িতে গেলে আমাকেও মারধর করে আহত করে।"

শাহাদাত মেম্বারের বাড়ির শাহেদ আলি বলেন, "রাতে সাত ভাই বাড়ির দুই যুবক আমাদের বাড়িতে চুরি করতে আসে। এর আগেও আমাদের বাড়ির পানির মোটরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস চুরি হয়েছে। রাতে আমার বাড়িতে উঁকিঝুঁকি করলে চোর সন্দেহে সাত ভাই বাড়ির শারফিনকে চর থাপ্পড় দেওয়া হয়। পরে সে লোকবল নিয়ে এসে রাতে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। সকালে আমার ভাতিজা উদয় ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নগদ টাকাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাকে মারধর করে টাকাসহ তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে দেয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।"

ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, "তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চণ্ডিবের এলাকায় সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশসহ আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ৭ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"

Advertisement

Link copied!