এস আই মাহফুজ, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস তিন বছর যাবত কর্মরত আছেন। সরকার কর্তৃক পরিচালকের জন্য মেডিকেল কলেজের নির্ধারিত আবাসিক বাসা থাকলেও তিনি সেখানে বসবাস না করে ডক্টর কোয়ার্টারের একাধিক ডরমিটরিতে বসবাস করছেন। একদিকে নির্ধারিত বাসায় বসবাস না করে বাসা ভাড়া কর্তন করা হচ্ছে না, অন্যদিকে ডরমিটরীর বাসা ভাড়াও কর্তন হচ্ছে না। এর ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিচালকের বাসা ভাড়া কর্তন না করায় প্রায় ৭ লক্ষ টাকা সরকারকে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের অন্যান্য বসবাসরত কর্মকর্তাদের বাসা ভাড়াও কর্তন না করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে নানা সমস্যা ও অনিয়মের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।
এছাড়া হাসপাতালের কর্মচারী ও নার্সদের বিরুদ্ধে রয়েছে দায়সারা দায়িত্ব পালন এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ। এতে দিন দিন এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান ভেঙে পড়ছে। হাসপাতালটির চলাচলের সুবিধার জন্য লিফট স্থাপন করা হলেও বেশিরভাগই অচল।
হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সংসদ সদস্যের প্রভাবে হাসপাতালে নিজের কর্তৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন হিসাবরক্ষক মজনু। এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের সহায়তায় প্রভাব খাটিয়ে হিসাবরক্ষক মো. মজনু মিয়া বিভিন্ন অনিয়ম করে যাচ্ছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ওই হাসপাতালের স্টোর কিপার মো. মোজাম্মেল হোসেন, পরিচালক মো. আ. কুদ্দুসের যোগসাজশে নামে মাত্র সার্ভে কমিটির মাধ্যমে নিম্নমানের এমএসআর সামগ্রী মালামাল স্টোরে সংরক্ষিত আছে। যার কারণে অপারেশন রোগীদের জন্য বাহির থেকে ঔষধ ক্রয় করতে হচ্ছে, ফলে রোগীদের আর্থিক ভাবে ৮/১০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে নির্বাচিত ঠিকাদারের হতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিম্নমানের ঔষধ সামগ্রী গ্রহণ করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, প্রতি অর্থ বছরে ১৫/১৬ কোটি টাকার এমএসআর টেন্ডার করা হয়ে থাকে।
সরজমিনে দেখা মিলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিটি ফ্লোর এবং ওয়াশরুম নোংরা, অপরিষ্কার, ঠিকমত ফ্লোর মোছা ও পরিষ্কারও করা হয় না। রোগীদের সাথে নার্সদের অসৌজন্যমূলক আচরণ। রোগীদের চলাচলের জন্য ১২টি লিফট স্থাপন করা হলেও সেখানে ২-৩টি লিফট ব্যবহার হচ্ছে, বাকিগুলো অচল থাকার কারণে রোগীদের আধা ঘণ্টা বা এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে সিঁড়ি দিয়ে ফাস্ট ফ্লোর থেকে ১১ তলা পর্যন্ত ওঠানামা করতে হয়। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি লিফটে একজন করে লিফট ম্যান দেওয়া আছে, তাদের বিভিন্ন ডাক্তারদের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এজন্যই বেশিরভাগ লিফটের অচল অবস্থা। ১১ তলার পরে ১২, ১৩, ১৪ ও আন্ডার গ্রাউন্ডে মাদকের আখড়া হিসেবে গড়ে উঠেছে। দিনের বেলায় মাদক সেবী কিছুটা কম দেখা গেলেও সন্ধ্যা পর থেকে মাদক সেবীদের হাট বসে।
স্টোর কিপার মো. মোজাম্মেল হোসেন ঔষধের বিষয়ে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান নতুন অজ্ঞান করার ইনজেকশন ঢাকার একটি কোম্পানি দেয়, তাদের সাথে এখনো চুক্তি হয়নি। এছাড়া অপারেশনের সকল ঔষধ সরবরাহ আছে।
হিসাবরক্ষক মো. মজনু মিয়ার বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুস জানান, বাসা ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন মিটিংয়ে আছেন, পরে ফোন দিতে। একাধিক বার ফোনে চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন :