সংখ্যালঘু জেলে সম্প্রদায়ের সড়ক অবরোধ, অবরুদ্ধ ৫০টি পরিবার

রাসেদুল ইসলাম , লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরশহরের লক্ষ্মীপাশা মালোপাড়ায় জেলে সম্প্রদায়ের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো চলাচলের সড়ক ইটের গাঁথুনি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে প্রায় ৫০টি পরিবার কার্যত ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মালোপাড়া এলাকার জেলে সম্প্রদায় একটি সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত সড়ক ব্যবহার করে আসছে, যা সরকারি ম্যাপেও সড়ক হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার মৃত অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকের ছেলে ব্যারিস্টার দেদার এলাহী (সজিব) ওই সড়কের পাশের জমির মালিকানা দাবি করে বিভিন্ন সময় সড়কটি বন্ধ করার চেষ্টা করে আসছেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রভাব খাটিয়ে সড়কটি বন্ধ করা হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল হক বিষয়টি তদন্ত করে সড়কটি পুনরায় খুলে দেন।

তবে গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করে দেদার এলাহী, লোহাগড়া থানা পুলিশের উপস্থিতিতে আবারও সড়কটি ইট দিয়ে গেঁথে বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী তুষার, শ্রীকান্তসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, “আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে এই সড়ক ব্যবহার করে আসছি। এটি সরকারি খাস জমি এবং রেকর্ড ম্যাপেও সড়ক হিসেবে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।”তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই কাজ করা হয়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই এডিসি (রেভিনিউ)-এর নির্দেশনায় সড়ক অবরোধের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

আগামী ১৯ এপ্রিল উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হতে বলা হয়েছে। সেসময় কাগজপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে ব্যারিস্টার দেদার এলাহীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী একবার সড়ক বন্ধ ও আবার খুলে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে “তামাশা” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, কোনো পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া মানবিক ও আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

 

 

Link copied!