ফরিদপুর বিআরটিএ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

এস এ মুরাদ , ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

ফরিদপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান কামরুলের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৪ সালে চাকরিতে যোগদানের পর মাত্র এক দশকের ব্যবধানে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিআরটিএ কার্যালয়ে কামরুলের টেবিলে ‘টেবিল মানি’ বা ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে শুরু করে যানবাহনের ফিটনেস সবক্ষেত্রেই দালালের মাধ্যমে টাকা না দিলে মাসের পর মাস সেবা পাওয়া যায় না। প্রভাবশালী এক দালালের মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশের পর থেকেই তিনি এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানা যায়।

অনুসন্ধানে কামরুল ও তার নিকটাত্মীয়দের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ফরিদপুরের তাম্বুলখানা ও সমেপুর বাজার এলাকায় কয়েক দফায় কোটি টাকার জমি কিনেছেন তিনি। এছাড়া প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের অবৈধ আয় গোপন করতে ভগ্নিপতি জহির শেখের নামে মাঝকান্দি বাজারে দোকান এবং শ্বশুরবাড়ি এলাকায় ৩০ লাখ টাকার বাগান গড়ে তুলেছেন। এছাড়া ঢাকাতেও তার একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও পরিবহন খাতে বড় বিনিয়োগ রয়েছে তার। ঢাকা মেট্রো-ক-২০-৫৮৩১ এবং ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৩৩৭০ নম্বরসহ একাধিক আন্তঃজেলা ট্রাকের মালিকানা তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সহকর্মী ও স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের দাবি, কামরুল অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব বলয়ের মাধ্যমে তিনি অফিস পরিচালনা করেন। সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসে তার দুর্ব্যবহার এবং দালালের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিদর্শক মেহেদী হাসান কামরুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ফরিদপুর বিআরটিএর নবনিযুক্ত সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা জানান, "আমি নতুন যোগদান করেছি। কিছু অভিযোগ আমার কানেও এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

দুদকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ সুষ্ঠু তদন্ত করলে এই কর্মকর্তার দুর্নীতির আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন ফরিদপুরবাসী।

Link copied!