পরকীয়ার অভিযোগে সালিশে মারধরের পর আত্মহত্যা, তিন জন গ্রেপ্তার

বাদশা মিয়া , শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

শিবালয়ে পরকীয়া সম্পর্কের কথা বলে গ্রাম্য সালিশে মারপিটের ঘটনায় কারখানা শ্রমিক এক সন্তানের মা ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: একই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে নাঈম (২১), মৃত জলিল খানের ছেলে আজিজ খান অন্তেজ (৭০) এবং মাধবদী গ্রামের মৃত ছালাম আলীর ছেলে শুক্কুর আলী শফিক (৪৫)। জানা গেছে, শফিক শিবালয় মডেল ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর কাশাদহ গ্রামের আ. খালেকের মেয়ে নাজমা আক্তার (২৫) স্থানীয় নবগ্রাম চায়না হার্ডওয়্যার কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি স্বামী নূর ইসলাম ও কন্যা সনিয়া আক্তারকে (৮) নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। কিছুদিন যাবৎ নাজমার সাথে প্রতিবেশী বিবাহিত জাকির হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনা জানাজানি হলে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্থানীয় কিছু যুবক নাজমার বাড়িতে সালিশ বসায়। সালিশে নাজমা ও জাকির হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে বেদম মারপিট করা হয়। সালিশে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাকিরকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নাজমা পরদিন শনিবার (১৮ এপ্রিল) কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে স্থানীয় কিছু বখাটে লোকজনের নানা কটুক্তির শিকার হন। অনেকেই পুনরায় ‘বিচার-সালিশ’ করতে হবে এমন মন্তব্য ও হুমকি প্রদান করে। এতে ভীত নাজমা বাড়িতে এসে গোসল করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শোবার ঘরে যান। অনেকক্ষণ ঘর বন্ধ দেখে বাড়ির লোকজন ডাকাডাকি করে। কোনো সাড়া না পেয়ে তার বাবা ঘরের পার্টিশন টপকিয়ে দেখতে পান নাজমা ফাঁসিতে ঝুলছেন। তার ডাক-চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে নাজমার নিথর দেহ ফাঁসির দড়ি থেকে নামায়।

এ নিয়ে নাজমার বাবা শিবালয় থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫/৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন (নম্বর: ৮৭, তারিখ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ধারা: দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪)। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

শিবালয় ওসি (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো জানান, অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে জোর অভিযান চলছে।

Advertisement

Link copied!