পীরগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন: উৎপাদন খরচের চাপে ম্লান কৃষকের হাসি

মোঃ হানিফ মিয়া , পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে মাঠজুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ থাকলেও কৃষকদের চোখেমুখে দেখা দিয়েছে হতাশার ছাপ। ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও সেচ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে লাভের অঙ্ক নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বোরো মৌসুমে পীরগঞ্জে ২৩,৩৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হলেও এ বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে ২৫,৫৩৫ হেক্টরে পৌঁছেছে। মূলত ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৫৮, ৬৯ এবং ব্রি হাইব্রিড-৩ ও ৫ জাতের ধান মাঝারি উঁচু ও নিচু জমিতে ব্যাপকভাবে আবাদ করা হয়েছে।

সরকার এবার ধানের ক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করলেও কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। রামনাথপুর ইউনিয়নের সফল উদ্যোক্তা ও কৃষক আতাউর রহমান লিখন প্রধান বলেন, “উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, বাজারে সেই তুলনায় ধানের দাম না পেলে কৃষকের টিকে থাকা দায় হবে।” অন্যদিকে, মদনখালী ইউনিয়নের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, অনেক ক্ষেত্রে পাইকারের অভাবে ১৭–১৮ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে, যা সরকারি মূল্যের প্রায় অর্ধেক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, বোরো আবাদ সফল করতে মাঠ পর্যায়ে আলোক ফাঁদ স্থাপন, বাদামী গাছ ফড়িং দমন ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই আমরা কাটার নির্দেশনা দিয়েছি যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি এড়ানো যায়।” তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, সরকারি সংগ্রহ অভিযান শুরু হলে বাজার দর স্থিতিশীল হবে এবং প্রতিটি ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছেন।

পীরগঞ্জের সাধারণ কৃষকদের মতে, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এই কৃষি খাতকে বাঁচাতে হলে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সরাসরি সরকারি ক্রয় নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ঋণের বোঝা ও লোকসানের কারণে আগামীতে ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Link copied!