কিশোরগঞ্জে বোরোর বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষকরা

জামাল উদ্দিন , কিশোরগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১,৬৮,২৬০ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১,৬৮,২৬২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১,০৪,৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩,৬৮১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭,৯৬,৬৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১১,৯৫,০২৯ মেট্রিক টন ধান।

ধান কর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে। জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা হচ্ছে। এ কাজে ৫৮০ থেকে ৬০০টি হারভেস্টার ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটছেন শ্রমিকরা।

গত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট ৬০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৫০ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ১০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। এ কাজে ৫৬৯টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ২৬ হাজার ৮৮৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

তবে ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। হাওরের কৃষাণী কনক রানী দাস বলেন, আমি ১৫ একর জমিতে ধান করেছি। সার ও ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম। সরকার নির্ধারিত মূল্য যদি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হতো, তাহলে আমরা কিছুটা লাভবান হতাম।

কৃষক হরবজন দাস জানান, বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করলে প্রতি একরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হবে।

আরেক কৃষক বলেন, ৬৭৫ টাকা দরে ২০০ মণ ধান বিক্রি করেছি। উৎপাদন খরচ তুলতেই কষ্ট হচ্ছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। সরকার ১,৪৪০ টাকা দরে ধান কিনবে বললেও সাধারণ কৃষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছে না।

কৃষকদের দাবি, সরকার ঘোষিত মূল্য যেন প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement

Link copied!