টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে হবিগঞ্জ শহরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অবিরাম বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো জনজীবন।
গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া কয়েক দফার ভারী বর্ষণে শহরের অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে সার্কিট হাউজ রোড, শায়েস্তানগর, কালীবাড়ী ক্রস রোড, শ্যামলী, বহুলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাঁটু থেকে বুকসমান পানি জমে যায়। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শহরের বাসিন্দারা জানান, অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই প্রতি বছর একইভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে খোয়াই, কুশিয়ারা সহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানিও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানিই বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জ জেলায় মোট ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ও নিচু এলাকাগুলোতেও পানি জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। প্রশাসনও জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদি বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পায় এবং উজানের ঢল অব্যাহত থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :