ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের সলিমগঞ্জ বাজারের সড়ক গুলোর বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাজারে আসা ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীরা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তা এবং সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। ফলে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বাজারে যাতায়াত।
চলতি বছরের ১ এপ্রিল বকুল মিয়া বাজারটি ইজারা নেন ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। এ বাজার থেকে প্রতি বছর বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সরেজমিনে জানা যায়- আলবাহরাইন সুপার মার্কেট থেকে লঞ্চঘাট, রফিক মোল্লার দোকান এলাকা থেকে কাপড়পট্টি হয়ে পোস্ট অফিস, ফলপট্টি, স্বর্ণপট্টি, আব্দুল অহাব দাখিল মাদ্রাসার সামনের সড়ক, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ইউনিয়ন পরিষদ, সবজি ও মাছ বাজার, চাউলপট্টি, পানপট্টি এবং নৌকাঘাট পর্যন্ত প্রায় সব সড়কই হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযোগী। খানাখন্দে ভরা এ সব রাস্তায় পানি জমে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা।
জলাবদ্ধতার মূল কারণ হিসেবে স্থানীয়রা দায়ী করছেন দীর্ঘদিন যাবত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনাকে। এতে ক্রেতারা বাজারে আসতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন। ফলে বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছেন স্থবিরতা।
বিশেষ করে আব্দুল অহাব দাখিল মাদ্রাসার সামনের প্রায় ৩০০ ফুট সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন অসংখ্য শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা। বৃষ্টির সময় এই সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
মুদি দোকান ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন- "বাজারে প্রায় এক হাজার প্রতিষ্ঠান থাকলেও পাকা সড়ক রয়েছে মাত্র ১০০ ফুট। পাকা ঘাট না থাকায় নৌযান থেকে মালামাল ওঠানামা করতে গিয়ে ঘটছে ক্ষতি ও দুর্ঘটনা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসা সটিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।"
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন- প্রতি বছর বড় অঙ্কের ইজারা আদায় হলেও উন্নয়ন হয় না বাজারের। ফলে কমে যাচ্ছে ক্রেতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা। বাজারের ইজারাদার জানালেন- "প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া একক ভাবে সড়ক সংস্কার বা পাকা ঘাট নির্মাণ সম্ভব নয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।" স্থানীয় ব্যবসায়ী নবী সিকদার বলেন- অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই পানিতে তলিয়ে যায় সড়ক। এতে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে অটোরিক্সা ও সিএনজি। দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান-"বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নেই। বিষয়টি সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আপনার মতামত লিখুন :