‘উর্ধ্বতনরা মানবিক না হলে ওসিরা মানবিক হবে কীভাবে?’—বদলিতে ক্ষুব্ধ সোনারগাঁবাসী

ফাহাদুল ইসলাম , নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি ওসিদের বদলির বিষয়ে মানবিক না হন, তাহলে মাঠ পর্যায়ের ওসিরা কীভাবে জনগণের উপর মানবিক হবে? — সোনারগাঁ থানার সদ্য বিদায়ী ওসি মো. মহিববুল্লাহর আকস্মিক বদলির পর এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে উপজেলাবাসীর মুখে মুখে।

মাত্র ৬ মাসের মাথায় জনবান্ধব এই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, ভালো কাজের পুরস্কার না দিয়ে বরং ‘অদৃশ্য চাপে’ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ওসি মহিববুল্লাহকে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সোনারগাঁ থানায় যোগদানের পর মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন ওসি মহিববুল্লাহ।

তার সময়ে উপজেলায় চুরি-ডাকাতি শূন্যতে নেমে আসে, গ্রেপ্তার হয় শতাধিক মাদক কারবারি। থানায় ‘হেল্প ডেস্ক’ চালু করে রাত-দিন জনগণের সমস্যা শুনতেন তিনি।

গভীর রাতে ডাকাতির প্রতিরোধে নিজে অবস্থান করতেন বিভিন্ন ডাকাতির স্পটে। যোগদানের পর থেকেই মাদক ও ডাকাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন মানবিক ওসি মহিববুল্লাহ। মাদক ও ডাকাতি নেমে আসে জিরো টলারেন্স। সেটাই কাল হলো ওসির। যেখানে পুরস্কৃত করা দরকার সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলির উপহার আসে।

তার এই পদক্ষেপে গণমাধ্যম কর্মীসহ সাধারণ জনগণের মধ্যে অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে ‌। এরকম দুর্ধর্ষ ওসি আর হবে কি সোনারগাঁয়ে?

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বদলির আদেশ আসে গত ২ রা মে । আদেশ পাওয়ার পর থানায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন বহু ভুক্তভোগী।

মাদকাসক্ত থেকে ফেরা এক যুবকের মা কুলসুম বেগম সেদিন ওসির পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার পোলাডারে আপনে ভালো করছেন স্যার। আপনে চলে গেলে ও আবার নষ্ট হইয়া যাইব।

এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সোনারগাঁজুড়ে তৈরি হয় আবেগ ও ক্ষোভ।

জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ বলেন, একজন ওসি যখন জনগণের আস্থা অর্জন করে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সফল হন, তখন তাকে সময় দেওয়া উচিত। ঘন ঘন বদলি, তাও আবার কোনো কারণ ছাড়া—এটা পুলিশিংয়ের জন্য ক্ষতিকর। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি ওসিদের প্রতি মানবিক না হন, তাদের ভালো কাজের মূল্যায়ন না করেন, তাহলে ওসিরাও মাঠে গিয়ে জনগণের কষ্ট বুঝবে না। চাকরি বাঁচানোর ভয়েই তারা দিন পার করবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওসি মহিববুল্লাহর দুই জমজ সন্তানের এসএসসি পরীক্ষা বৈদ্যেরবাজার এন,এ,এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান, এমতাবস্থায় বদলির আদেশ আসলে পরিবারের মধ্যে এক অন্যরকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাদের মনে একটি প্রশ্ন, বদলি হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু মানবিক পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে বদলির আদেশ আসলে তা সকলের জন্য মঙ্গল হয়।

সোনারগাঁবাসীর দাবি, জনবান্ধব ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের যেন ‘পুরস্কার হিসেবে বদলি’ না দেওয়া হয়। তবেই মাঠ পর্যায়ে মানবিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি মহিব্বুল্লাহ বলেন, বদলির আদেশ পেয়েছি, তবে পারিবারিক সমস্যার কারণে বদলির আদেশ স্থগিত করে সময় দীর্ঘায়িত করার জন্য এসপিও ডিআইজি বরাবর আবেদন করেছি, আশা করি তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আবেদনটি মঞ্জুর করবেন।

 

 

Advertisement

Link copied!