মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ শুভ কান্তি দাস নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্ক। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ছোট ছোট মাদক চক্র সক্রিয় থাকলেও ধরা পড়ছে কেবল খুচরা বিক্রেতারা, আর থেকে যাচ্ছে মূল হোতারা।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমলগঞ্জ থানার চৈত্রঘাট এলাকায় অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পরবর্তীতে শ্রীনাথপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে শুভ কান্তি দাসকে (৩৮) আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ৪ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেফতার শুভ কান্তির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
শুভ কান্তি দাসের গ্রেফতারের পর স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একজন খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে মাত্র ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় কি পুরো মাদক নেটওয়ার্কের চিত্র উঠে আসে? নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় রাতের অন্ধকারে ছোট ছোট চালানে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সহজে প্রবেশ করে। এরপর স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন বাজার ও গ্রামে।
স্থানীয়দের অন্যতম বড় অভিযোগ হলো, একই ধরনের অপরাধীরা বারবার গ্রেফতার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। কেবল অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধারই যথেষ্ট নয়, বরং মাদকের মূল জোগানদাতা এবং অর্থদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় ইয়াবার বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ সহজ অর্থের লোভে মাদক বহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। বড় চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক অভিযান ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য বলেন, “গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।” এ ঘটনায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :