মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব: ধসে পড়ছে পাকা ধানক্ষেত, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি ও বিদ্যুৎ লাইন

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বক্করী মৌজায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। গভীর গর্ত করে মাটি উত্তোলনের ফলে একের পর এক পাকা ধানক্ষেত ধসে পড়ছে এবং পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন খুঁটিসহ বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্করী মৌজায় রাজা, জুবায়ের এবং মতিন নামে তিন ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। গভীর গর্ত করে মাটি কাটার ফলে পাশের জমিগুলোর মাটি সরে গিয়ে পাকা ধানের ক্ষেত ধসে পড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন হাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার সন্তোষসহ একাধিক প্রান্তিক কৃষক। অভিযোগ রয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় এবং প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ফসলি জমিই নয়, মাটি কাটার ফলে বসতবাড়ি এবং পল্লী বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় খুঁটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দিশেহারা কৃষাণীরা আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের বছরের পরিশ্রমের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অথচ কেউ আমাদের কথা শুনছে না।”

অভিযোগের বিষয়ে রাজা মিয়া বলেন, “আমি কৃষকের জমি ভরাট করে দেবো। মাটি ব্যবসায়ী জুবায়েরের নামে মামলা দেওয়া হবে।” অন্যদিকে মাটি ব্যবসায়ী মতিন দাবি করেন, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য তারা একজন দালালের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন জানান, “বর্তমানে মাটি কাটার কাজ চলমান থাকলে আমাদের জানান। ফোর্স পাঠিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং মাটি কাটা বন্ধ না হলে বক্করী মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি ও জননিরাপত্তা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Advertisement

Link copied!