বোরহানউদ্দিনে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

রিয়াজ ফরাজী , বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে ৯টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। শত শত একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো কৃষক পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে ৯টি শক্তিশালী লোড ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এর মধ্যে হাসের চর এলাকায় ৫টি এবং চর বাগমারা এলাকায় ৪টি ড্রেজার মেশিন সক্রিয় রয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ফাইজুল ইসলাম (১টি ড্রেজার), কাচিয়ার মফিজ (১টি), থানার মোড় এলাকার সুতা নুরনবী (১টি), নুরু ড্রেজার (১টি) এবং খেওয়া ঘাট এলাকার আল আমিন মোল্লা (১টি)। এছাড়া গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চর বাগমারা এলাকায় আরও ৪টি ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত অবিরাম বালু তোলা হচ্ছে।

অবিরাম বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশে গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তীরবর্তী চরাঞ্চলে। হঠাৎ করেই চর লতিফ ও চর বাগমারা এলাকার বিস্তীর্ণ আবাদি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিকে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে ড্রেজার বন্ধ করার কেউ নেই। আমরা কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব? দেখার কেউ নেই।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস স্থানীয় পুলিশসহ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন আটক ও জরিমানা করলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। প্রশাসনের অভিযানের পর বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদিকে, কোস্ট গার্ডের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। ভাঙন রোধে তাঁরা দ্রুত কোস্ট গার্ডের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক গতি ও ভারসাম্য নষ্ট করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে অনেকগুলো চর চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

বোরহানউদ্দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ চরাঞ্চলগুলো স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণ। কিছু অসাধু চক্রের লালসায় এই জনপদ ধ্বংসের মুখে পড়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে নদী রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Link copied!