সরকারি নিয়ম মেনে ৬ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার পরও অনিশ্চয়তায় পড়েছে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল বাজার অস্থায়ী পশুর হাট। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অনুমোদন না পেয়েই একটি প্রভাবশালী মহল মাত্র ১০০ মিটার দূরে বালু নদীর অপর পাড়ে নতুন পশুর হাট বসানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। এতে সরকারি ইজারাদারের ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি এলাকায় সংঘাত, বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূবাইল বেপারি পাড়া জামে মসজিদের সৌজন্যে পরিচালিত পূবাইল বাজার অস্থায়ী পশুর হাট চলতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৬ লাখ টাকায় ইজারা পান স্থানীয় ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন।
আগামী ২৩ মে থেকে ঈদের সকাল পর্যন্ত হাট পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। তবে ইজারা না পেয়ে পাশের ছোট কয়ের ও বড় কয়ের গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি বালু নদীর ওপারে আলাদা হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইজারাদার আফজাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “সরকারের নিয়ম মেনে লাখ লাখ টাকা জমা দিয়ে হাট নিয়েছি। এখন কিছু লোক সামান্য টাকায় অবৈধভাবে আরেকটি হাট বসিয়ে সরকারি হাট ধ্বংসের চেষ্টা করছে। এতে সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ব্যবসায়ীরাও বিপদে পড়বে।” অন্যদিকে দুই টাকার ছাগলে ৬ লাখ টকার হাট খাওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদকে সামনে রেখে বড় ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, একই এলাকায় দুইটি পশুর হাট বসলে যানজট, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়বে। পূবাইল বাজারের ব্যবসায়ী মামুন বেপারি বলেন, “একটা সরকারি হাটের পাশেই আরেকটা হাট বসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে মারামারি-সংঘর্ষেরও ভয় আছে।”
গরু ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরকারি অনুমোদিত হাটে প্রশাসনিক নজরদারি, নিরাপত্তা ও পশু চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু অননুমোদিত হাটে এসব সুবিধা না থাকায় প্রতারণা, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্থানীয় প্রবীণদের অভিযোগ, ঈদ এলেই একটি চক্র পশুর হাটকে কেন্দ্র করে আলাদা সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এতে সরকারের রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পূবাইলের পশুর হাটে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে সরকারি ইজারাকৃত হাটের পাশেই নতুন হাট বসানোর অভিযোগে পুরো এলাকায় এখন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :