স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ খুন করে ফোনে স্বীকারোক্তি, পলাতক প্রাইভেটকার চালক ফুরকান

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯ মে, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা। হত্যাকাণ্ডের পর নিজেই স্বজনকে ফোন করে “পাঁচজনকে মেরে পালাচ্ছি” বলে উধাও হয়ে যায় অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া। পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফুরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। 
 
কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।শনিবার (৯ মে) ভোরে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও তীব্র চাঞ্চল্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলার ভাড়া বাসা থেকে ৫জনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
 
সকালে বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে ঘরের ভেতর বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখতে পান। মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল মা শারমিনের মরদেহ। বিছানার ওপর পড়ে ছিল শ্যালক রসুলের নিথর দেহ। খবর পেয়ে এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম।
 
স্বজনদের দাবি, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে হত্যার কথা জানায়। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ধারণা করছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পিবিআই, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, “ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
 
 
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ, আর্থিক বিরোধ ও দাম্পত্য সন্দেহকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, কোমল পানীয় এবং রান্না করা পায়েশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহের পাশে পাওয়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজে স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া গেছে।
 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলের আলামত, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র ও মোবাইল ফোনের তথ্য গুরুত্বসহকারে পরীক্ষা করা হচ্ছে।  অভিযুক্ত ফুরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।একসঙ্গে পাঁচজনের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে কাপাসিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভের ছায়া। স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনে এত ভয়াবহ দৃশ্য তারা কখনও দেখেননি।

Link copied!