গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ মে, ২০২৬, ১১:২৪ এএম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৯ মে ২০২৬) ভোরে উপজেলার রাউৎকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও এক নারী রয়েছেন।

নিহতরা হলেন—ওই বাড়ির গৃহকর্তা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩২), শ্যালক রসুল (২২), এবং ফোরকানের তিন মেয়ে মিম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। নিহত শারমিন ও তাঁর পরিবার রাউতকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

নিহত শারমিনের ভাগনে সাকিব জানান, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় শ্যালক রসুলকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনেন দুলাভাই ফোরকান। রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে ফোরকান তাঁর স্ত্রী, শ্যালক এবং তিন শিশুকন্যাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেন। সকালে নিহতের স্বজনরা ঘরের মেঝেতে পাঁচটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কোনো বিরোধের জেরে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর তিন সন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে জবাই করে হত্যা করে পালিয়েছেন। অভিযুক্ত ফোরকান পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক।”

একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের এমন করুণ ও পৈশাচিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও চরম আতঙ্ক নেমে আসে। হাজারো মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমান। পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেফতারে একাধিক চৌকস দল মাঠে নেমেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে জেলা পুলিশ।

Link copied!