গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের বাঁশতলী এলাকায় ৪১ লাখ টাকার এইচবিবি সড়ক নির্মাণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌচাক ইউনিয়নের বাঁশতলী গ্রামের নওয়াব আলীর বাড়ি থেকে দিঘীবাড়ি সুলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার কাঁচা রাস্তা এইচবিবি সড়কে উন্নীত করতে ৪১ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ‘সেলিম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ সম্পূর্ণ না করেই তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় বালু ব্যবহার করা হয়নি, রাস্তার দুই পাশের গাঁথুনি দুর্বলভাবে করা হয়েছে এবং ইট বসানো হয়েছে এলোমেলোভাবে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশতলী এলাকায় নওয়াব আলীর বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া সড়কের একাধিক স্থানে ইট উঠে গেছে। অন্তত ১০টির বেশি জায়গায় রাস্তার গাঁথুনি ভেঙে ইট ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশ দেবে গিয়ে মূল অংশ নিচু হয়ে গেছে। এছাড়া পশ্চিম পাশে সুলের বাড়ির নিকটবর্তী অংশে কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “রাস্তার কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। বালু ব্যবহার না করেই ইট বসানো হয়েছে। পশ্চিম পাশের অনেক অংশ কাজই করা হয়নি। আমরা বারবার ভালোভাবে কাজ করার অনুরোধ করলেও ঠিকাদার কর্ণপাত করেনি। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাকছুদুন্নবী বলেন, “বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
”অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সেলিম বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি। তবে রাস্তা ঢালু হওয়ায় টানা বৃষ্টিতে কিছু অংশে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।আমরা দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করবো। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন,“অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবো। এখনো তাদের পুরো বিল পরিশোধ করা হয়নি। সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিল দেওয়া হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :