গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন বড়বাড়ি এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড কারখানায় তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার শত শত শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত তিন থেকে চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। বারবার আশ্বাস দিলেও মালিকপক্ষ নির্ধারিত সময়েও বেতন পরিশোধ করেনি। সর্বশেষ গত ১৪ মে বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেদিনও শ্রমিকদের হাতে কোনো টাকা তুলে দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, ঘরের ভাড়া, সন্তানের লেখাপড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ধার-দেনা করে পরিবার চালাতে হচ্ছে তাদের। বাধ্য হয়েই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন।
পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার রাতে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তারা সড়ক ত্যাগ করে পুনরায় কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকদের একাংশের হামলায় কারখানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন ম্যানেজার) মো. মিজানুর রহমান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মিজানুর রহমান দাবি করেন, মালিকপক্ষের আরেকটি কারখানা আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে এবং সেই কারখানার শ্রমিকদের পাওনা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে বন্ধ কারখানার জমি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। জমি বিক্রি সম্পন্ন হলে ঈদের আগেই ইউনিক ওয়াশিংয়ের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কারখানাটিতে প্রায় এক হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদারকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, শ্রমিকরা বর্তমানে কারখানার ভেতরে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পরে তিনি জানান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মহিউদ্দিন আহমেদ, শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গাছা জোনের উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুর রহমান এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী মামুনুর রশীদের উপস্থিতিতে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আগামী রোববার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :