সোনারগাঁয়ে পরিবেশের চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ফাহাদুল ইসলাম , নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় সর্বত্র চলছে পরিবেশ দূষণের মহোৎসব। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রাচীন বাংলার এই ঐতিহাসিক নগরী অতীতের সকল জৌলস হারিয়ে বাংলাদেশের এক দূষিত জনপদে পরিণত হচ্ছে।

প্রাচীন এই জনপদে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত শিল্প ও কল কারখানা, যেমন চৈতি কম্পোজিট গ্রুপ,আমান ইকোনমিক জোন, মেঘনা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের সিমেন্টসহ বিভিন্ন কেমিক্যালের ফ্যাক্টরি,বর্জ্য ও নির্গত কেমিক্যালের কারনে যা ইতিমধ্যে শীতলক্ষা নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও মেনি খালি নদী দূষণের চরম পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে মেঘনা নদীতে চলছে বিভিন্ন কোম্পানির দখলসহ কেমিক্যালের বর্জ্য ফেলে নদী দূষণ করে জীববৈচিত্রের জীবননাশের শেষ চেষ্টা।

অপরদিকে মেঘনা নদীতে গত ৫ মে ২০২৬ ইং থেকে আনন্দবাজার এলাকায় রাতের আঁধারে ২০ থেকে ২৫ টি ড্রেজার বসিয়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের হরিলুটের কারবার। এর ফলে সারা রাত্র ড্রেজারের বিকট শব্দে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে।

এছাড়া এই নদী কেন্দ্রিক যাদের জীবন জীবিকা নির্ভরশীল এইসব ড্রেজার এবং বল গেটের যাওয়া আসার কারণে জেলেদের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, ফলে পরিবারগুলো পথে বসার উপক্রম। অপরদিকে শতবর্ষী আনন্দবাজার নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ সম্পর্কে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, বিআইডব্লিউটিএ'র স্টেটমেন্ট নিতে। এবং তার দায়িত্বকে এড়িয়ে এ সম্পর্কে কোন কথা বলতে চাননি। এ প্রতিবেদক বিআইডব্লিউটিএ'র সাথে যোগাযোগ করলে ড্রেজিং বিভাগের প্রধান আব্দুর রহমান বলেন, বাৎসরিক মেইনটেনেন্স এর জন্য একটি ড্রেজারের অনুমতি রয়েছে, তবে সেটা ড্রেজিং বিভাগের শর্ত সাপেক্ষে নদীর ঘাটে ড্রেজিং করবেন,যদি রাতের আধারে ১৫ থেকে ২০ টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় সেগুলো অবৈধ।

স্থানীয় ব্যক্তি আব্দুল করিম বলেন, রাতে যেভাবে ১৫ থেকে ২০ টি ড্রেজারসহ কয়েকশত বলগেটের বিকট শব্দে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করতে পারছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, কলাপাতা রেস্টুরেন্টের মালিক মোমেন শিকদারের নেতৃত্বে, পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং এমপি মান্নান সাহেবের ডান হস্ত মাসুম রানা, আনন্দবাজার এলাকার বাছেদ মেম্বারের ছেলে আলমগীর মেম্বার, শহীদুল্লাহ মেম্বারের ছেলে নবী মেম্বার, নুরুর ছেলে আমির হোসেন, গফুরের ছেলে মাজহারুল, এবং সুদখোর মোহাসিন গং রাতের আঁধারে অবৈধ বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে তালতলা পর্যন্ত ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তায় ৫ টনের অধিক ভারী যানবাহন চলাচলের নিষিদ্ধ থাকলেও প্রতিদিন শত শত গাড়ী ২০ থেকে ৪০ টনের ভারী যানবাহন চলাচল করছে, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলো যেকোনো সময় ভেঙ্গে পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এইসব লোকাল রাস্তায় বড় বড় ট্রাঙ্ক, লরি চলা চলের কারণে মোগরাপাড়া থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত যানজটে এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সোনারগাও উপজেলা কার্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব ১০০ মিটার এরমধ্যে উদ্ববগঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর অবস্থান। ইহার ঢালে ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১২০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে।এই একটি মাত্র রাস্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা রাস্তা পারাপার হয়ে থাকে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাবিকুন্নাহার বলেন, এই সরু রাস্তায় এত বড় বড় গাড়ি চলাচল যদি বন্ধ না হয়, আর কত দুর্ঘটনা ঘটলে বন্ধ করবে একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বি আর বিলকিস বলেন,আমরা শিক্ষক, অভিভাবক সব সময় এ কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তা পারাপার নিয়ে শঙ্কায় থাকি কখন জানি কোন দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার নিরাপদ পরিবেশ সরকার যদি ব্যবস্থা করতে না পারে তাহলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

 

Link copied!