ডিসি হওয়ার ‘চুক্তি’ ঘিরে তোলপাড়, চসিক কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

মেয়রের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করা, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের যখন-তখন বদলি ও পদায়ন এবং ঊর্ধ্বতনের পদায়ন করা কর্মকর্তাকে এখতিয়ারের বাইরে বদলির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল আগেই আলোচনায় এসেছেন। এবার কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে তাঁকে পদায়নের বিনিময়ে বিভাগীয় কমিশনারকে ৮ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা সামনে এসেছে। ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা এই অঙ্গীকারনামা সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনে।

এদিকে বিষয়টি জানাজানির পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এস এম সরওয়ার কামালকে আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। ১৩ মে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নোটিশে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

শোকজ নোটিশে সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নে বিভাগীয় কমিশনারকে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি পাওয়ার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অঙ্গীকারনামার বিষয়ে সরওয়ার কামাল বলেন, ‘কেউ হয়তো আমার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এ কাজ করেছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার স্যারের সঙ্গে এভাবে কি চুক্তি করা যায়?’

চুক্তির অভিযোগের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘আমার ওপর কার এত ক্ষোভ বুঝতে পারছি না। এটি ষড়যন্ত্র হতে পারে। এ ধরনের চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।’

চসিক থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আমিন লাইসেন্স শাখায় (সার্কেল-৬) উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মো. তৈয়বুর রহমান চৌধুরীকে একই শাখায় (সার্কেল-৮) এই পদায়ন করেন। কিন্তু নিম্নতম কর্মকর্তা হয়েও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল ৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতনের সেই আদেশ বাতিল করে দেন। একইভাবে সচিব মো. আশরাফুল আমিন ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে অনুমতিপত্র পরিদর্শক হিসেবে আবদুল মতিন ও মো. ইকবালকে পদায়ন করেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবার দুই কর্মকর্তাকে গত ৯ এপ্রিল সেখান থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে দেন। এই ধরনের পদক্ষেপে রাজস্ব শাখায় অস্থিরতা শুরু হলে রাজস্ব বিভাগে তিনটি বদলি আদেশ এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র। ১২ এপ্রিল চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব বদলি আদেশ বাতিল করা হয়।

চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগে গতি আনতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায়কারীকে উপ-কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। এর আলোকে ১৪ জনকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে, তার একটি তালিকা ঠিক করে দেন মেয়র নিজে। কোন উপ-কর কর্মকর্তাকে কোন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো আবার একেকজনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে মেয়রের নির্দেশনাও অমান্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বিষয়টি যাচাই করে মেয়র এক চিঠিতেই সব বদলি আদেশ বাতিল করেন।

এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে অনিয়মের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’

Advertisement

Link copied!