গাজীপুর সিটির পূবাইল বাজার অস্থায়ী পশুর হাটকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৭ লাখ টাকায় ইজারা নেয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বৈধ পশুর হাটের মাত্র ৩২০ মিটার দূরে ১০ হাজার টাকার আরেকটি নতুন হাট বসানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
শনিবার থেকে পূবাইল বাজারের অস্থায়ী পশুর হাট শুরু হবে চলবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত ।এর আগেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশের বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই একই এলাকায় দুই পক্ষকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
রোববার (১৭ মে) বিকালে এলাকায় তদন্তে গিয়ে গাজীপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মঈন খান এলিস সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “পূবাইল বাজারের হাট বসাতে হলে ডিসি সাহেবের অনুমোদন লাগবে। আর ছোট কয়ের হাট বসাতে আইনগত কোন বাধা নেই ওখানে হাট বসাতে পারে তারা। ”তার এই বক্তব্যের পরপরই এলাকাজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন পরিচালিত অস্থায়ী পশুর হাটের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসককে শুধু অবহিত করার বিধান রয়েছে, আলাদা অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ এসিল্যান্ড “অবহিতকরণ”-কেই “অনুমোদন” হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়ে পূবাইল বাজারের বৈধ হাটে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন না জেনেই এসিল্যান্ড কয়ের ব্রিজসংলগ্ন নতুন হাটের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি তিনি ছোট কয়ের হাটের লোকজনকে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করে আসেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করেছে তার সফরসঙ্গীদের উপস্থিতি। এলাকাবাসীর দাবি, ওই সময় এসিল্যান্ডের পাশে ছিলেন বাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আবদুল হাই শিকদার, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও অতীতে কারাবরণের ঘটনা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া দুই মামলার সাজাপ্রাপ্ত এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকেও তার পাশে সেখানে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে জয়দেবপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ছোট কয়ের ব্রিজের গোড়ায় যে (১০ হাজার নূন্যতম) হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, তার সিডিউল বিক্রি শেষ হয়েছে। দরপত্র উন্মুক্ত হওয়ার পর কে ইজারা পেয়েছে জানানো হবে। তবে জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।”
পূবাইল বাজার অস্থায়ী পশুর হাট ইজারাদার আফজাল হোসেন বলেন, আমাকে রীতিমতো হয়রানি করা হচ্ছে, আমি ৭ লাখ টাকায় পেয়েছে। এখন দরপত্র যারা পরাজিত হয়েছে তারা জেলা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে একই সংসদীয় এলাকায় ৩২০ মিটার দুরে আর একটি হাট বসিয়ে আমাকে একটি সিন্ডিকেট আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে। এটার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
অন্যদিকে পুরো ঘটনায় গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও জবাব মেলেনি।স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি বৈধ ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটের এত কাছাকাছি নতুন হাট বসানোর প্রয়োজন কেন দেখা দিল? আর প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কেন এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা দুই এলাকার মানুষকে সরাসরি বিরোধে ঠেলে দিচ্ছে?
এলাকাবাসী বলছেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল উত্তেজনা কমানো ও সমাধানের পথ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে কিছু সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আপনার মতামত লিখুন :