পূবাইলে জমি নিয়ে বিরোধ,৩ মাস পর ওসির মামলা রেকর্ড ;গ্রেপ্তার-১

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬, ১২:২১ এএম

গাজীপুরের সিটির পূবাইল থানায় জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে বেআইনি হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

আদালতে চলমান একটি জমি বিরোধকে থানায় “বিচার” বসিয়ে নিষ্পত্তির চেষ্টা ও পরে বাদীপক্ষের অনুকূলে মামলা রেকর্ড করে গভীর রাতে আসামি গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, পূবাইল থানার মামলা নং-১০, তারিখ ১৫ মে ২০২৬-এ চলতি বছরের ৩ মার্চের একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে মামলা রেকর্ড করা হয়।যা মামলা রেকর্ড করার পর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে এসআই এহতেশামকে।  

জানা যায়, মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে পূবাইল থানার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্দান এলাকা।

কিরোজের স্ত্রী রাহেলা জানান, এর আগে ফ্যাসিস্ট আমলে বাদি বায়েজিদ  ফিরোজ গং-দের নামে পূবাইল থানায় ৫টি মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। বিএনপি আমলে ঢাকা কোতোয়ালি থানায় ১টি আর সম্প্রতি ১৫ মে একটি মামলা দিয়ে আমার পরিবারকে নিঃস্ব করে ফেলেছে। প্রতিটি মামলা করতে তদন্ত লাগেনি কাগজে কলমে ছাড়া।

সর্বশেষ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই এহতেশাম জানান, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর আমাকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।  স্থানীয় সূত্র জানায়, বিন্দান এলাকার জমিটি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিচারাধীন। এ নিয়ে দুই দফা থানায় সালিশসদৃশ বৈঠকও হয়। কিন্তু ওসির মনমতো সমাধান না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ আসামিপক্ষের। শুক্রবার (১৫ মে )বাদী বায়েজিদ হোসেনের পক্ষ নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলায় বায়েজিদের বোন ফজিলা বেগমকে তিন মাস আগে আহত দেখানো হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে,ঘটনার প্রায় তিন মাস পর গত রোববার  দিবাগত রাত ১২টার পর মামলার ১ নম্বর আসামি ফিরোজ মিয়াকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ফিরোজের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদেরও মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।কিন্ত অন্যান্য আসামি উপস্থিত থাকা সত্বেও তাদের ছেড়ে দিয়ে শুধু ফিরোজকে থানায় এনেছে।

সোমবার (১৮মে) আদালতের মাধ্যমে ফিরোজকে কারাগারে পাঠায় পূবাইল থানা পুলিশ। আসামিপক্ষের দাবি, “কোনো তদন্ত ছাড়াই ওসি নিজেই মামলা রেকর্ড করেছেন। আদালতে মামলা চলমান জেনেও তিনি বাদীপক্ষের হয়ে কাজ করেছেন। এটা স্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরিবারকে হয়রানির অপচেষ্টা।”

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, থানায় বসে জমি বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা ও পরে আদালতের বিষয় জেনেও ফৌজদারি মামলা দিয়ে গ্রেফতার,দুইটিই প্রশ্নবিদ্ধ। 

তারা বলছেন, “যে বিষয়ে আদালতে বিচার চলছে, সেখানে থানার ওসির এমন সক্রিয় ভূমিকা আইন ও বিধির পরিপন্থী। এ বিষয়ে পূবাইল থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, “মামলা রেকর্ড করে আসামি গ্রেফতার করার পর আমার মনে  বিষয়টি আমার পুরোপুরি নজরে আসে।”

ওসির এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন হলে তদন্ত ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা ঠিক হয়নি। আমি পুরো বিষয়টি দেখছি। 

আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে বিচারাধীন জমি বিরোধে থানার সরাসরি হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘ সময় পর হঠাৎ মামলা রেকর্ড করে গভীর রাতে গ্রেফতার করার ঘটনায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা মনে করেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এ ধরনের মামলা গ্রহণ ও গ্রেপ্তার নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

এ ঘটনায় পূবাইল এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।  তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Link copied!