পূবাইল বাজারে কোরবানির পশুর মহাহাটকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল বাজার মাঠে বসতে যাচ্ছে এক বিশাল কোরবানির গরু-ছাগলের হাট। আগামী ২৩ মে শনিবার থেকে শুরু হয়ে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চলবে এই জমজমাট পশুর হাট। ইতোমধ্যে হাটকে কেন্দ্র করে পুরো পূবাইল এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, খামারি ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

পূবাইল বাজার বেপারীপাড়া জামে মসজিদের সৌজন্যে আয়োজিত এ হাট পূবাইল বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উন্নত জাতের গরু, ষাঁড়, মহিষ ও ছাগল আনা হবে এই হাটে, ক্রেতাদের জন্য থাকবে নিরাপত্তা, যানবাহন পার্কিং ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা।

হাটের ইজারাদার ও পূবাইল থানা বিএনপির সদস্য মোঃ আফজাল হোসেন বলেন,“পূবাইলের এই ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটকে আমরা একটি নিরাপদ, সুন্দর ও ক্রেতাবান্ধব হাট হিসেবে গড়ে তুলছি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভালো মানের কোরবানির পশু আসবে। ক্রেতারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে পশু কিনতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আলো ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।আমরা চাই পূবাইলের এই হাট ঈদের সবচেয়ে বড় ও আস্থার হাট হিসেবে পরিচিতি পাক।”

তিনি আরও বলেন,“এখানে কোনো চাঁদাবাজি বা হয়রানির সুযোগ থাকবে না। প্রশাসনের সহযোগিতায় সুন্দর পরিবেশে হাট পরিচালনা করা হবে। পরিবার নিয়ে এসে নিশ্চিন্তে পশু কিনতে পারবেন ক্রেতারা।”

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, পূবাইলের ঐতিহ্যবাহী এই পশুর হাটকে ঘিরে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন গতি আসবে।  তারা বলেন,"পূবাইলের মানুষ সবসময় বড় আয়োজন পছন্দ করে। এবারও বিশাল পরিসরে হাট বসছে। স্থানীয় জনগণ, খামারি ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় এই হাট ঈদ বাজারের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।”

স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, এক জায়গায় বিভিন্ন জেলার বড় বড় গরু ও ছাগল পাওয়া গেলে তাদের জন্য পশু কেনা সহজ হয়। তাই তারা পরিবার নিয়ে পূবাইলের এই হাটে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে হাট ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় মাইকিং, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো ও প্রচারণা শুরু হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের কোরবানির ঈদে পূবাইল বাজারের এই পশুর হাট গাজীপুর অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাটে পরিণত হবে।

পূবাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। সাদা পোশাকের টিমসহ সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, ছিনতাই বা জাল টাকার প্রতারণা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।”

 

Advertisement

Link copied!