সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলা দ্রুত রায়ের পথে, সম্পন্ন আলামত জব্দের সাক্ষ্য

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

গাজীপুরের বহুল আলোচিত দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার  আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ, জব্দকৃত আলামত উপস্থাপন এবং আদালতের দ্রুত সময় নির্ধারণে মামলাটি এখন রায় ঘোষণার দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে গাজীপুর আদালতে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কেটু মিজান ওরফে কোপা মিজান, তার স্ত্রী গোলাপিসহ মোট ৮ জন আসামিকে হাজির করা হয়। একই দিনে হত্যা কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জব্দকৃত আলামত আদালতে জমা দেওয়া হয় এবং আলামত জব্দের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন, “হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন জব্দকৃত আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দকৃত আলামতের সাক্ষীদের মধ্যে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার মেরিট অত্যন্ত শক্তিশালী। আদালতে দ্রুত সময় নির্ধারণ হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই দোষীদের বিরুদ্ধে বিচারিক রায় হবে।”

জিএমপির বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, “সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার অগ্রগতি আশানুরূপ। বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগোচ্ছে এবং শিগগিরই মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আমরা আশা করছি।”

মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিক তুহিনের বড় ভাই সেলিম বলেন, “আমাদের পরিবার অত্যন্ত আশাবাদী। আদালতের রায়ের মাধ্যমে আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এর আগে মামলার ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণে নিহত তুহিনের ভাতিজা সোহাগ সুরতহাল সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। আদালত ইতোমধ্যে পুলিশ সদস্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছে।

আলোচিত এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত কেটু মিজানকে আদালতে হাজির করার সময়ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে আদালতে আনার সময় প্রিজন ভ্যান থেকে নামার মুহূর্তে কেটু মিজানের দেওয়া চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “বাংলাদেশে বহু সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। কিন্তু দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় যেভাবে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম এগোচ্ছে, তা সাংবাদিক সমাজের জন্য আশার বার্তা। এই মামলার বিচার সম্পন্ন হলে এটি সাংবাদিক হত্যা মামলার বিচারের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ আগস্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার মাঝখানে প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চার্জ গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়াকে সাংবাদিক হত্যা মামলার ইতিহাসে বিরল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সাংবাদিক নেতারা।

Advertisement

Link copied!