গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ঐতিহ্যবাহী পূবাইল বাজার পশুর হাটকে কেন্দ্র করে এবার নতুন করে শুরু হয়েছে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ।
কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করে তথাকথিত মানববন্ধনের নামে একটি “ভূয়া নাটক” সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে যেটিকে “স্কুল মাঠে গরুর হাট” হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, বাস্তবে সেটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ নয়।
এলাকাবাসীর দাবি, উক্ত স্থানটি সরকারি ভূমি অফিস বা কাছারির জমি, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে কাঠের হাট, সামাজিক অনুষ্ঠান শনিবারে ছাগল-হাঁস-মুরগির হাট, ওয়াজ-মাহফিল, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন জনসমাগমমূলক কার্যক্রম হয়ে আসছে। এমনকি বিদ্যালয়ের নানা অনুষ্ঠানও সেখানে অনুষ্ঠিত হয়।
এ ঘটনায় পূবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রিয়া রানী দাসের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, “বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষই বিষয়টি জানে না।”
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মিথ্যা ইস্যু তৈরি করে কোমলমতি শিশুদের হাতে গরুর হাটবিরোধী ব্যানার ধরিয়ে মানববন্ধন করানো অত্যন্ত নেক্কারজনক ও অমার্জনীয় কাজ। শিশুদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এবং অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের অনেকেই অতীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তারা ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে পূবাইল বাজারের বৈধ পশুর হাটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ও বৈধ পূবাইল বাজার পশুর হাট নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অভিযোগ রয়েছে, হাটের ইজারা না পেয়ে ক্ষুব্ধ একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে হাটের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে।
পূবাইল বাজার পশুর হাটের ইজারাদার আফজাল হোসেন বলেন, “আমি নিয়ম মেনে ৭ লাখ টাকায় পূবাইল বাজার পশুর হাটের ইজারা পেয়েছি। কিন্তু আওয়ামী দোসররা ইজারা না পেয়ে এখন জামায়াতের মোড়কে বাজারটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি ও যুবলীগ ঘরানার সাংবাদিক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঐতিহ্যবাহী পূবাইল বাজারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ এই হাট বহু বছরের পুরোনো এবং এলাকার অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বৈধ হাটকে বিতর্কিত করতে শিশুদের ব্যবহার এবং ভুয়া মানববন্ধনের আয়োজন সামাজিকভাবে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন যেন প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় ও ঐতিহ্যবাহী পূবাইল বাজার পশুর হাটকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধ করা সময়ের দাবি।
আপনার মতামত লিখুন :