কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার পাশেই অবস্থিত কেদার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য জনবলেরও তীব্র সংকট রয়েছে।
ফলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেক রোগী ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া খরচ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলেও চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন দীর্ঘদিনের অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং অনেক জানালা-দরজা নষ্ট হয়ে গেছে। কেন্দ্রের ভেতরে অযত্নে পড়ে রয়েছে নষ্ট মালামাল। আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং রোগ নির্ণয়ের সুবিধা না থাকায় রোগীরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাও যথাযথভাবে পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কাগজে-কলমে চালু থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের তেমন কোনো উপকারে আসছে না। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেদার ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় কেউ অসুস্থ হলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়। জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে যায়। অনেক গর্ভবতী নারী ও শিশুকে ঝুঁকি নিয়ে দূরবর্তী হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। তারা দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ এবং কেন্দ্রটির সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেদার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির কার্যক্রম সচল করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, কেন্দ্রটিতে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, পর্যাপ্ত জনবল প্রদান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত তদারকি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার।
একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেদার ইউনিয়নের হাজারো মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কেদার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে, যাতে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ নিজ এলাকায় সহজেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করতে পারেন।
আপনার মতামত লিখুন :