দৌলতপুরে চুরির আতঙ্কে পারমাস্তুল গ্রাম: চেয়ারম্যানের নোটিশ সত্ত্বেও বিবাদী অনুপস্থিত

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার খলসী ইউনিয়নের পারমাস্তুল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের নিলু শেখের ছেলে "ফিরোজ ওরফে ফেরেজ" এলাকায় স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে আসছে। একাধিকবার হাতেনাতে ও চাক্ষুষ শনাক্ত করার পরও কোনো কার্যকর বিচার না পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

পারমাস্তুল গ্রামের বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত ফিরোজের চুরির খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। অতি সম্প্রতি গত ২৬শে মে দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী অঞ্জনার ঘরের মাটি খুঁড়ে ভেতরে প্রবেশ করে ৬ আনা ওজনের কানের দুল চুরি করে নিয়ে যায় ফিরোজ। অঞ্জনা জানান, চুরির সময় তিনি চোরের হাত ধরে ফেললেও ঝাপটা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় সে।

একই গ্রামের গোলাম মওলা ও মালেকের স্ত্রী রোজিনা আক্তার জানান, পূর্বে তাদের উভয়ের পরিবার থেকেই যথাক্রমে ৬ আনা ও ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল চুরির ঘটনা ঘটে, যার পেছনে একই ব্যক্তি জড়িত ছিল। বিলকিস নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, মেয়েকে দুধ খাওয়ানোর সুযোগে তার ৬ আনা ওজনের দুল চুরি হয়। এছাড়া ৩ বছর আগে শখিনা নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে ৬ আনা ও রেনু নামের আরেক ভুক্তভোগীর জা-এর কানের দুল চুরির অভিযোগ রয়েছে এই ফিরোজের বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে বড় চুরির শিকার হয়েছেন সবিতা আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তার ৩ ভরি ওজনের পায়ের নুপুর চুরি হয়। তিনি নিজে চোর ফিরোজকে দেখলেও এখনো কোনো বিচার পাননি।

ভুক্তভোগী জানিয়া আক্তার জানান, চুরির ঘটনার পর তিনি প্রথমে স্থানীয় মাতব্বর সামাদ মাতব্বরের দ্বারস্থ হন। কিন্তু তিনি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীরা গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে খলসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসী যথাসময়ে উপস্থিত হলেও অভিযুক্ত ফিরোজ ওরফে ফেরেজ হাজির হননি।

এ বিষয়ে খলসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, "নির্ধারিত সময়ে বিবাদী উপস্থিত না হওয়ায় গ্রাম্য আদালতের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে আবারও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।"

দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চুরির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী রুপচান শেখসহ গ্রামের সাধারণ মানুষের দাবি—রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত পার পেয়ে যাচ্ছে, যা এলাকায় চোরের উপদ্রব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অবিলম্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত ফিরোজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন পারমাস্তুল গ্রামবাসী।

Link copied!