পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ক্ষয়ে যাচ্ছে,বদলি-প্রত্যাহারের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা

জাহাঙ্গীর আলম তপু , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

গত বছরের জুলাই মাসে যখন লক্ষ লক্ষ ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন শুধু একটি সরকারের পতন নয়-একটি ব্যবস্থার বদলের দাবিও ছিল তাদের কণ্ঠে। সেই দাবির কেন্দ্রে ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীকে দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী থেকে মুক্ত করে একটি পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু অভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেওয়ার বদলে ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে।

নজরদারি বেড়েছে, কিন্তু সংস্কার? সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারের কর্মদক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক আচরণ নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা পৃথকভাবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো ডিআইজি বা এসপির বিরুদ্ধে ব্যর্থতা, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

কিন্তু দৃশ্যমান এই তৎপরতার আড়ালে আসল ছবিটা ভিন্ন। বিশ্লেষক ও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ঊধর্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু নজরদারি বাড়ানো আর ঘন ঘন বদলি-প্রত্যাহার দিয়ে প্রকৃত সংস্কার হয় না বরং এই পদ্ধতি মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে, যা পেশাদারিত্বের বিকাশকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে।

এক মাসে চার এসপি প্রত্যাহার: সম্প্রতি মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চারটি জেলার পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালকে প্রত্যাহার করা হয়। মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া এই কর্মকর্তার মেয়াদে জেলায় দুটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়কের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়। এর আগে ফেনী, পঞ্চগড় ও মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারকেও একইভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এই প্রত্যাহারগুলো বাহ্যত জবাবদিহির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে হলেও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ভেতরের ভিন্ন বাস্তবতার কথা জানাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, "রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর অনৈতিক হস্তক্ষেপ বেড়েই চলেছে। কাকে কোথায় পদায়ন করা হবে, কে পদোন্নতি পাবে-এসব বিষয়ে বাইরের চাপ স্পষ্ট। এতে দুর্নীতি বাড়ছে এবং প্রকৃত পেশাদার কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।"

পুলিশ কমিশন গঠনে অদৃশ্য অগ্রগতি: জুলাই অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরে পুলিশ কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। একটি স্বাধীন কমিশন যা পুলিশের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখবে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সত্যিকারের পেশাদার চরিত্র দেবে। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও সেই কমিশন গঠনের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এর পরিণতি হলো, পুলিশের মৌলিক সংস্কারের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, মেধাভিত্তিক পদায়ন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। বরং মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক কর্মকর্তা পোস্টিং ও পদোন্নতিকে ঘিরেই বেশি মনোযোগী-আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখার চিন্তাই বড় হয়ে উঠছে। পুলিশের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিভাগে দক্ষ কর্মকর্তার তীব্র সংকটও এই চিত্রকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে তাৎক্ষণিক বদলি-প্রত্যাহারই যেন একমাত্র প্রশাসনিক হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

 

ময়মনসিংহের ওসি পদায়নে বিতর্ক: অনিয়মের জলজ্যান্ত প্রমাণ: কাঠামোগত সংস্কারের অভাব কতটা গভীর, তার একটি প্রত্যক্ষ উদাহরণ দেখা গেছে ময়মনসিংহ রেঞ্জে। এই রেঞ্জের চারটি জেলায় অন্তত ১৬ জন ওসির সাম্প্রতিক পদায়ন নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী ছিলেন-এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে থানায় পদায়ন করা হয়েছে, যা অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তনের চেতনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এর মধ্যে বিশেষভাবে চোখে পড়েছে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ঘটনা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই থানায় দুজন ওসিকে পদায়ন ও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে ঘুষ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত চললেও বড় ধরনের শাস্তিমূলক বা কাঠামোগত পরিবর্তনের কোনো আভাস এখনো নেই। ফ্যাসিস্ট পদায়নে বিষয়ে অভিযোগের তীর রেঞ্জ অফিস ও জেলা পুলিশে অফিসের দিকে হলেও এবং পত্রিকার সংবাদ ও গোয়েন্দা রিপোর্ট তার কর্মকান্ড নিয়ে লিখিত দিলেও তার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখনও ধোঁয়াশাপূর্ণ।

 

দলীয়করণের সংস্কৃতি বদলায়নি, শুধু রঙ বদলেছে: জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠন ও জনআস্থা ফেরানোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিগত সরকারের সময়ে গড়ে ওঠা আপসকামী মানসিকতা ও দলীয়করণের সংস্কৃতি পুরোপুরি দূর হয়নি। পুরোনো রাজনৈতিক আনুগত্যের জায়গায় নতুন মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয়তাবাদী ঘরানার পরিচয় দেওয়ার কারণে অনেক যোগ্য কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও পদায়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলায়নি; বরং নতুন বাস্তবতায় নতুন ধরনের প্রভাববলয় তৈরি হচ্ছে। ফলে নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তব রূপ পাচ্ছে না।

পদোন্নতি ও পদায়নে বৈষম্য: চেইন অব কমান্ডে ভাঙন: সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের উর্ধ্বতন পদে পদোন্নতি নিয়ে নতুন অলিগার্কের উদ্ভব হয়েছে। লোকমুখে উচ্চারিত হচ্ছে গোপালগঞ্জ থেকে অলিগার্ক উত্তরবঙ্গ সহ বিভিন্ন অফিসের রুমে গড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিগত সরকারের শাসনামলে যারা পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে মূলধারার বাইরে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সময়েও সেই ধারা অব্যাহত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জ্যেষ্ঠতা ((Seniority)) লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করার ফলে ক্ষোভ বাড়ছে বাহিনীর ভেতর। এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে  ৪ জুন একটি পদোন্নতি জিও ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ১৫তম পুলিশ ক্যাডারের ডিআইজি আলী আকবর খান স্বেচ্ছায় অবসরের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এছাড়া ডিআইজি সৈয়দুর রহমান, ডিআইজি ড. মোঃ আক্কাছ উদ্দিন ভূঁইয়া, ডিআইজি জমশের আলী, ডিআইজি আব্দুল কাদের, ডিআইজি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান, ডিআইজি মাহমুদুর রহমান, ডিআইজি মোঃ মুসলিমসহ বেশ কিছু অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এবারও পদোন্নতিবঞ্চিত রয়েছেন। ১৫ তম বিসিএস পুলিশ অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের এভাবে পাশ কাটিয়ে জুনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার ফলে পুলিশ প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পদোন্নতির অনিয়মে অনেকে দূর্নীতির গন্ধ পাচ্ছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ড. নাজমুল করিম খান ও ড. আশরাফুর রহমানের প্রতিকারহীন আবেদন: পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো বা অভিযোগের ভিত্তি ছাড়াই ডিআইজি ড. নাজমুল করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হয়েছে। তার সার্ভিস রেকর্ড সন্তোষজনক হওয়া সত্ত্বেও তাকে পুনর্বহাল না করার বিষয়টি প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একইভাবে, অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোঃ আশরাফুর রহমানের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফ্যাসিবাদী আমলে দীর্ঘ সময় কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে তিনি ন্যায়বিচার ও প্রতিকারের আবেদন জানালেও এখনো কোনো সুরাহা পাননি। অথচ, বিগত সরকারের সুবিধাভোগী অনেক কর্মকর্তা প্রশাসনের উচ্চপদে বহাল থেকে এখনো প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: প্রশ্নের মুখে নীতিনির্ধারকরা: এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও অস্বস্তি বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি কতটা গভীরভাবে বিবেচনা করছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয় বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক সচিব দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশের দক্ষ কর্মকর্তাদের চাকুরী এক্সটেনশনের যৌক্তিক আবেদন অবহেলিত। এর ফলে সমাজের  স্টেকহোল্ডারদের নিকট এই সরকারের মনোভাব বিষয়ে ভুল ম্যাসেজ যাচ্ছে। প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, পুলিশ মহাপরিদর্শককে পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহল থেকে নির্দেশনা বা চাপ দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুলিশ বাহিনী অনেক সময়ই নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না, এবং এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।

 

সাবেক আইজিপির সতর্কবার্তা: সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা মনে করেন, কোনো কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলে তার কারণ স্বচ্ছভাবে জানানো উচিত। বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ থাকলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তবে শুধু বদলি বা প্রত্যাহারের মাধ্যমে পুলিশের পেশাদারিত্ব ফেরানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "শুধু বদলি-প্রত্যাহার করলেই পুলিশের পেশাদারিত্ব ফিরবে না। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, মেধাভিত্তিক পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং পুলিশ কমিশনের মতো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দ্রুত গঠন করতে হবে।"পুলিশ প্রশাসনের আরেকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আরও স্পষ্টভাবে বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতা যে পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ বাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিল, তার বাস্তবায়ন এখন হুমকির মুখে। প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা না থাকলে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে, যে-কোনো সংস্কারই ভাসাভাসা থেকে যাবে।"

কাঠামোগত সংস্কারই একমাত্র পথ: পর্যবেক্ষকরা একমত যে, সাম্প্রতিক নজরদারি ও প্রত্যাহারের মাধ্যমে সরকার জবাবদিহির বার্তা দিতে চাইলেও প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য দরকার গভীর কাঠামোগত সংস্কার। এর জন্য তারা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলছেন। প্রথমত, পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে, যা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয়ত, মেধা ও সততার ভিত্তিতে ক্যারিয়ার পরিকল্পনার একটি স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করতে হবে। তৃতীয়ত, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এবং চতুর্থত, মন্ত্রণালয়সহ সব স্তরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে।

এসব পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ঘন ঘন বদলি-প্রত্যাহারের ধাক্কায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তেই থাকবে। একই সঙ্গে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মৌলিক দায়িত্ব পালনেও অতীতের ফ্যাসিষ্ট আমলের ভেংগে পড়া পুলিশ ক্রমেই আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। জুলাই অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতন ঘটায়নি-এটি ছিল একটি প্রজন্মের ন্যায়বিচার ও পরিবর্তনের জন্য রক্তাক্ত আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষাকে যদি শুধু রাজনৈতিক ভাষণে আটকে রাখা হয়, আর বাস্তব প্রশাসনিক সংস্কারের পথে না হাঁটা হয়, তাহলে অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার শুধু কাগজে-কলমে থেকেই যাবে। এবং তার মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।

 

Advertisement

Link copied!