কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শহিদুল হককে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ। রবিবার দুপুরে জেলার খুনিয়াপালং এলাকার একটি গহীন আস্তানায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে শহিদুল হকের বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। অভিযানের সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় শহিদুল হকের বাড়ি থেকে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানবপাচার ও হত্যা মামলার বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়েও তথ্য রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, শহিদুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণার পাশাপাশি হত্যা ও গুমের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
আটকের পর শহিদুল হককে রামু থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শহিদুল একজন পঙ্গু ব্যক্তি, তার দুই পা নেই। কিন্তু তার জীবনযাপন ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য। এলাকার মানুষের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় তার বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করেন।
তার বাড়ির চারপাশে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। শুধু বাড়ির ভেতরেই নয়, আশপাশের সড়কেও রয়েছে নজরদারি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কী এমন গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে এই বাড়িকে ঘিরে?
শহিদুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত নুরুল আলম সরাসরি এই চক্রে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত। এলাকাবাসীর দাবি, দু'জনকেই তারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন এবং তাদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ক্যাম্প এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সংগ্রহ করে মালয়েশিয়ায় পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে পাঠানোর নামে বিভিন্ন সময়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের অনেক সময় বিদেশে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
সম্প্রতি নুরুল আবসার নামের এক ব্যক্তির পরিবারও এমন অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাসে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়। পরে তিনি বিদেশে নানা দুর্ভোগের শিকার হন।
এই শহিদুল হকের বাড়িতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা ও এআরও সদস্যদের যাতায়াত রয়েছে বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ।
শহিদুল ওরফে সইদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে তাকে ধরার জন্য অভিযান চালিয়েছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।
আপনার মতামত লিখুন :