সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মানহানিকর প্রচারণা ও অশ্লীল মন্তব্য করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর সাইবার ইউনিট।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পলাশ দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি পরিচালনা করে সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করে আসছিলেন।
তার কর্মকাণ্ডের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
ডিএমপি ডিবির সাইবার ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সাইবার অপরাধ দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলোর তথ্য-উপাত্ত ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার (১১ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে শেরপুর জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত পলাশের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ভুয়া আইডি ব্যবহার করে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন।
এর আগে একই ঘটনায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক রমনা থানায় একজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে সাইবার অপরাধ সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পলাশকে শনাক্ত করা হয় এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ ময়মনসিংহের কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন, যারা অর্থের বিনিময়ে তাকে দিয়ে এসব অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাতেন। তদন্তে উঠে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে মুক্তাগাছা উপজেলার মো. আনিসুর রহমান ও শহিদুল ইসলামের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ছাত্রলীগের সদস্য মোঃ আনিসুর রহমান ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা শহিদুল ইসলাম চক্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য ও ২০১৭ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন।
মোঃ শহিদুল ইসলাম ও আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সাইবার সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন আইনের একাধিক মামলা হয়েছে। তারা পলাতক অবস্থায় থেকে বিভিন্ন ভুয়া আইডির মাধ্যমে অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা।
আপনার মতামত লিখুন :