প্রকৌশলীশূন্য লোহাগড়া পৌরসভা: স্থবির উন্নয়ন, নাগরিক সেবায় চরম ভোগান্তি

নিউজ ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

রাসেদুল ইসলাম,লোহাগড়া : নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে প্রকৌশলী সংকটে ভুগছে। দুইজন প্রকৌশলীর পদ থাকলেও বর্তমানে একজনও দায়িত্বে না থাকায় পৌরসভার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো পরিকল্পনা ও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে নাগরিক সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর এলাকার প্রায় ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত লোহাগড়া পৌরসভা দীর্ঘ ২৫ বছর পার করলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক অস্থিরতা, জনবল সংকট এবং প্রকৌশলীর শূন্যতার কারণে পৌরসভার কার্যক্রম আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌরসভার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী না থাকায় নতুন সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভবন নির্মাণের নকশা যাচাই, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলন প্রস্তুত এবং টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরকারি বরাদ্দের আওতায় থাকা বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এছাড়া পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতেও রয়েছে সংকট। বর্তমানে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব তোফিকুল আলম একসঙ্গে দুটি পৌরসভার দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি সপ্তাহে সীমিত সময় লোহাগড়া পৌরসভায় অফিস করেন। এতে নাগরিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি কর্মকর্তার অভাবে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান হচ্ছে না।

পৌর নাগরিক আশিকুর রহমান বলেন, “লোহাগড়া পৌরসভার বর্তমান অবস্থা খুবই হতাশাজনক। উন্নয়ন কাজ প্রায় বন্ধ। নাগরিকরা বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত প্রকৌশলী নিয়োগ না দিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) ও সচিব তোফিকুল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় কোনো প্রকৌশলী না থাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রাক্কলন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অন্তত দুইজন প্রকৌশলী প্রয়োজন।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত প্রকৌশলীসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না হলে লোহাগড়া পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও পিছিয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে নাগরিক সেবার মানও দিন দিন অবনতির দিকে যাবে। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পৌরবাসী।

Link copied!