সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং মানহানিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইউনিট।
ডিবি সূত্র জানায়, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার (১১ জুন) গভীর রাতে শেরপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া পলাশ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভোলার আলগী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. সুরুজ আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) তাকে ঢাকা মহানগর আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পলাশ বিভিন্ন নিরীহ মানুষের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি পরিচালনা করতেন। এসব আইডির মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ময়মনসিংহের কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে এসব অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
এ ঘটনায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক রমনা থানায় সাইবার অপরাধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই ডিবি সাইবার ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করে।
সাইবার অপরাধে কঠোর শাস্তির সতর্কবার্তা
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুয়া আইডি কিংবা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করলেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব।
আইন অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা, মানহানিকর বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করলে সাইবার অপরাধের আওতায় মামলা হতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড— উভয় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে অভিযুক্তকে।
এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে কিংবা কারও প্ররোচনায় অপপ্রচার চালালেও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককেই আইনের আওতায় এনে সমানভাবে শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে এর সত্যতা যাচাই করা উচিত। কারণ একটি অসচেতন পোস্ট বা মন্তব্যও আইনি জটিলতা তৈরি করে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :